
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পর দীর্ঘ জল্পনার অবসান হতে চলেছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে জেপি নাড্ডার উত্তরসূরি হিসেবে বিহারের ভূমিপুত্র নীতীন নবীনের নাম একপ্রকার চূড়ান্ত। দলের অন্দরের খবর, আগামী ১৯ জানুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেবেন। আর সভাপতির সিংহাসনে বসার আগেই নিজের সক্রিয়তা জাহির করতে শুরু করেছেন নীতীন। সূত্রের খবর, দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই শমীক ভট্টাচার্যসহ বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের দিল্লিতে তলব করেছেন তিনি।
১৯৮০ সালে বিহারে জন্ম নেওয়া নীতীন নবীন বিজেপির একজন একনিষ্ঠ এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত বিজেপি নেতা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার পুত্র নীতীন ২০০৬ সালে বাবার মৃত্যুর পর সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। বর্তমানে তিনি বিহারের সড়ক নির্মাণ মন্ত্রী এবং পাঁচবারের বিধায়ক। ছত্তিশগড় বিজেপির ইন-চার্জ হিসেবে তাঁর সাম্প্রতিক সাফল্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর কেড়েছে। নীতীন নবীনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার অর্থ হলো, দীর্ঘ সময় পর হিন্দি বলয়ের একজন তরুণ ও লড়াকু নেতাকে দলের ব্যাটন তুলে দিচ্ছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব।
বঙ্গ রাজনীতির কারবারিদের মতে, নীতীন নবীন কার্যনির্বাহী সভাপতি পদে বসার পর থেকেই রাজ্য নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চাইছেন। আনন্দবাজার ডিজিটাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, “শমীকদের আগাম তলব” করে নীতীন আসলে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংগঠনের হালহকিকত বুঝে নিতে চাইছেন। লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় আশানুরূপ ফল না হওয়া এবং পরবর্তী উপনির্বাচনগুলোতে ভরাডুবির পর রাজ্য বিজেপিতে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা মেটানোই সম্ভবত তাঁর প্রথম লক্ষ্য।
ইতিমধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে নীতীন নবীনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি লিখেছেন, নীতীন নবীন একজন প্রকৃত ‘কার্যকর্তা’, যাঁর রাজনীতি গড়ে উঠেছে সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্যে দিয়ে। শমীকবাবুর মতে, নীতীনের দক্ষ নেতৃত্বে বিজেপি দেশজুড়ে সুশাসন ও উন্নয়নের রাজনীতিকে আরও গতি প্রদান করবে। এই শুভেচ্ছা বার্তার মধ্যেই নীতীন ও শমীকের ভবিষ্যৎ সুসম্পর্কের ইঙ্গিত পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জেপি নাড্ডাকে মোদী ক্যাবিনেটে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী করার পর থেকেই একজন দক্ষ ও পূর্ণকালীন সভাপতির প্রয়োজন অনুভব করছিল দল। নীতীন নবীন সেই অভাব পূরণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোতে ভালো দখল থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গ ও দক্ষিণ ভারতের মতো অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোতে বিজেপির সংগঠনকে মজবুত করাই হবে তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।
বিহারের পাঁচবারের বিধায়ক থেকে ভারতের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের সভাপতি হওয়ার পথে নীতীন নবীনের এই উত্তরণ দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় বদল আনতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে আগামী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে শমীকদের সঙ্গে তাঁর এই আগাম বৈঠক অত্যন্ত অর্থবহ। দিল্লিতে নীতীনের সঙ্গে বঙ্গ নেতাদের এই সাক্ষাতের পর রাজ্য বিজেপির কাঠামোতে কোনো বড় রদবদল হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।।
