
শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসকে ঘিরে ফের রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বাকযুদ্ধ। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিলিগুড়ি সফরের আগেই এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেন, “ঠেলার নাম বাবাজি।” তাঁর এই মন্তব্যে ধর্ম ও রাজনীতির সংঘাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল।
দিলীপ ঘোষের দাবি, বিজেপি কখনও ভোটের জন্য মন্দির তৈরি করে না। তাঁর বক্তব্যে, “আমি হঠাৎ ভক্ত সাজতে মন্দিরে যাই না। মন্দিরে যাই ভগবানের সঙ্গে দেখা করতে। কে মন্দির বানাল, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।” দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের সময় মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আমন্ত্রণ জানালেও, শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, আমন্ত্রণ পাওয়া না-পাওয়া বড় কথা নয়।
তৃণমূলের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, “সব উদ্দেশ্য ঠিক না থাকলে ভগবানও বাধা দেন। সৎ উদ্দেশ্য থাকলে কোনও বাধাই থাকে না।” কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির চাপে পড়েই এখন অনেকে মন্দিরমুখী হচ্ছেন। “ঠেলায় পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে কেউ কেউ আবার মন্দিরে উঠছে,” মন্তব্য তাঁর।
মন্দির রাজনীতিতে বিজেপি ব্যাকফুটে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিলীপ জানান, রাম মন্দির কোনও দলের নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতির দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। সাধারণ মানুষের অনুদানে তৈরি সেই মন্দিরের পাশে বিজেপি নৈতিকভাবে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের বাড়তি ফোকাস প্রসঙ্গে দিলীপের অভিযোগ, দক্ষিণবঙ্গে বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি আদালতের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। তাঁর মতে, গত পনেরো বছরে তৃণমূল সীমা ছাড়িয়েছে এবং আসন্ন ভোটে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ দু’জায়গাতেই মানুষ তার জবাব দেবে।
প্রসঙ্গত, প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিগাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের জন্য জমি চিহ্নিত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দিঘা ও নিউটাউনের পর উত্তরবঙ্গেও বড় ধর্মীয় পরিকাঠামো গড়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই এই নতুন রাজনৈতিক তরজা।
