
মুকুল রায়ের বিধায়কপদ খারিজের কলকাতা হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত হয়ে গেল। হাইকোর্টের ১৩ নভেম্বরের রায়ের পর, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ শুক্রবার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এর ফলে চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মুকুল রায়ের বিধায়কপদ কার্যকরভাবে স্থগিত থাকবে না।
এই মামলায় বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় এবং মুকুল রায়কে নোটিশ জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। তখন বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত মুকুল রায় ১১ জুন তৃণমূলে যোগ দেন। বিরোধীরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের ভিত্তিতে তাঁর বিধায়কপদ খারিজের আবেদন করেন।
প্রথমে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় মুকুলের বিধায়কপদ খারিজের দাবি বাতিল করেন, কারণ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির সদস্য ছিলেন। তবে হাইকোর্ট অধ্যক্ষের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে মুকুলের বিধায়কপদ খারিজের নির্দেশ দেয়। অভিযোগ ছিল, মুকুল তৃণমূলের হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত এবং পিএসি চেয়ারম্যান পদে থাকা সংবিধান ও প্রথার লঙ্ঘন।
এই রায়ের স্থগিতাদেশের মাধ্যমে মুকুল রায়ের বিধায়কপদ সম্পর্কে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দ্বন্দ্ব এখনও অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, মামলায় বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়ের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য, যিনি প্রথম আদালতে চ্যালেঞ্জ এনেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এই মামলা চূড়ান্ত শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ।
মুকুল রায়ের বিধায়কপদ নিয়ে এই বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন দফা যোগ করল, যা দলত্যাগ বিরোধী আইন ও রাজনৈতিক ক্ষমতার সমন্বয় নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
