
ভারতের অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি নিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিলেন লস্কর-এ-তইবার শীর্ষ কমান্ডার হাফিজ আব্দুল রউফ। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে মুরিদকে প্রধান ঘাঁটিতে ভারতীয় হামলার কারণে মারকাজ-ই-তইবা কমপ্লেক্স কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। রউফের ভাষ্যে, “এখন সেখানে আর কোনো মসজিদ নেই, সব শেষ হয়ে গেছে। আমরা বসতেও পারি না।”
রউফের স্বীকারোক্তি শুধু হামলার ফলাফলের উপর সীমাবদ্ধ নয়; তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে পাকিস্তান জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তায় সরাসরি সহায়তা করছে। তার মতে, রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেই তারা জঙ্গি কার্যক্রম চালাতে পারছে। এছাড়া, ভারত-পাক উত্তেজনার সময়ে পাকিস্তানকে চিন রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে এবং বেজিং সরঞ্জাম ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
রউফের মুখ থেকে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মারকাজ-ই-তইবায় নতুন জঙ্গিদের পাসিং-আউট অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় দেখা গেছে, অপারেশন সিঁদুরের পরও পাকিস্তানের মদতে লস্করের পরিকাঠামো পুনর্গঠিত হয়েছে।
এদিকে, এই স্বীকারোক্তি ভারতের বহু বছরের দাবি স্বয়ং লস্করের মুখে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে যে জঙ্গি আশ্রয় নয়, পাকিস্তানের প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনেই কার্যক্রম চলছে। NDTV-এর ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের শীর্ষ জঙ্গি নেতৃত্ব নিজেই এই সত্য স্বীকার করলেন।
অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, জঙ্গি কার্যক্রম সহ্য করা হবে না, কিন্তু রউফের মন্তব্য দেখাচ্ছে, লস্করের পুনর্গঠন ও পাকিস্তান-চিনের সহযোগিতা নিয়ে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এ ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ইসলামাবাদের জন্য কঠিন প্রশ্ন তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
