
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় ফের শুরু হবে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি এমনই স্পষ্ট বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের আবারও শুনানির জন্য ডাকা হবে। পাশাপাশি কমিশন কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আধিকারিক যদি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে একমাত্র প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার এসআইআর-এর শুনানিকে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় চাকুলিয়ায়। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতার হামলায় পুড়িয়ে দেওয়া হয় বিডিও অফিস। অফিসের ভিতরের আসবাবপত্র, নথিপত্র-সহ প্রায় সবকিছুই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। বাঁশ ও লাঠি হাতে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন, ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
চাকুলিয়া ছাড়াও ইসলামপুর ও পার্শ্ববর্তী একাধিক থানায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এই সময় সংঘর্ষে আহত হন একাধিক পুলিশকর্মী। অভিযোগ ওঠে, আইসি-র উপরও হামলা চালানো হয়। পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁদের বারবার এসআইআর শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছিল, যার জেরেই ক্ষোভ জমে ওঠে। শুধু উত্তর দিনাজপুর নয়, বারাসত থেকে বাঁকুড়া, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এসআইআর নিয়ে বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের সময় পুলিশ কমিশনের অধীনে না থাকলেও নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব তাদেরই। নতুন করে নিয়োগ হওয়া প্রায় তিন হাজার মাইক্রো অবজার্ভারের মধ্যে ৩৩০ জন বাইরের রাজ্য থেকে আসছেন বলেও কমিশন সূত্রে খবর। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
