
বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে মমতা লেখেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।
বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ বারামতির পাহাড়ি এলাকায় অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে একটি Learjet 45 চাটার্ড বিমান। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় অজিত পাওয়ার ছাড়াও পাইলট-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হলেও আগুন ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজে বেশ কিছুটা সময় লেগেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঘটনার দিন সকাল থেকেই ওই এলাকায় ঘন কুয়াশা ছিল। পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কম থাকায় উড়ান পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে একজন ভিভিআইপি যাত্রী থাকলে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার বিষয়টি আরও কড়াভাবে খতিয়ে দেখার কথা। তা সত্ত্বেও কেন উড়ানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েই এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, Learjet 45 বিমানটি মূলত বিজনেস ট্র্যাভেলের জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতে এই মডেলের বিমানে একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছিল। এয়ার প্রেসার, উইন্ড শিল্ড সংক্রান্ত সমস্যার কারণে এক সময় ভারতে এই বিমানের চলাচল বন্ধও রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরে রিমডেলিংয়ের মাধ্যমে ফের পরিষেবায় আনা হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘন কুয়াশাকেই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হলেও, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা মানবিক গাফিলতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন। গোটা দেশ জুড়ে এই দুর্ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
