
কলকাতার আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুদামের মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরও মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৩ জনে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ জনের বেশি। ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত গুদাম মালিক গঙ্গাধর দাসকে পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযানে মেদিনীপুরে হানা দিয়ে তাঁকে আটক করে। পরে বারুইপুর জেলা পুলিশের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়। বুধবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে তোলা হতে পারে।
তদন্তে উঠে এসেছে, যে গুদামে আগুন লাগে সেই জমির মালিক ছিলেন গঙ্গাধর দাস। ওই গুদামটি একটি মোমো কোম্পানির কাছে লিজে দেওয়া ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে গুদাম মালিকের দাবি, দুর্ঘটনার দায় মোমো সংস্থার উপরই বর্তায়। অগ্নিকাণ্ডের পর তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।
মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে আরও কয়েকজনের দেহ উদ্ধার হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে একের পর এক নিখোঁজের অভিযোগ জমা পড়ছে নরেন্দ্রপুর থানায়। এখনও উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে রাজ্য সরকারের তরফে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি মৃতের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী যাঁরাই এই ঘটনার জন্য দায়ী হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাকরি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আনন্দপুর ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
