
আনন্দপুরের ‘জতুগৃহ’ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। ঘটনার চার দিনের মাথায় ঘটনাস্থলের বাইরে জারি করা হয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৩ ধারা। এর মধ্যেই সেখানে যেতে ও মিছিল করার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আদালতে তাঁর মামলার শুনানির অনুমোদন দিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
বিজেপির তরফে গড়িয়া শীতলামন্দির থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে নরেন্দ্রপুর থানার পক্ষ থেকে সেই আবেদন খারিজ করা হয়েছে। পুলিশের ইমেলে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত রুটে একাধিক হাসপাতাল ও স্কুল রয়েছে। মিছিল হলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হতে পারে এবং জরুরি পরিষেবার গাড়ি ও কর্মীদের চলাচলে বাধা পড়তে পারে। সেই কারণেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, গুদামের ১০০ মিটারের মধ্যে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে এবং কোনও রকম জমায়েত ও মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে, তথ্যপ্রমাণ লোপাট রুখতে এবং উদ্ধারকাজে কোনও বাধা যাতে না আসে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত। তবে বিজেপির প্রশ্ন, বিরোধী দলনেতার ঘটনাস্থলে যাওয়া আটকাতেই কি এই ধারা জারি করা হয়েছে?
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। দমকল ও ফরেন্সিক বিভাগের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে আগুন লাগে ডেকরেটর্সের গুদামে, মোমো গুদামে নয়। ডেকরেটর্সের গুদামের পশ্চিম দিকের তিনতলা বিল্ডিং অংশ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত গোটা গুদাম চত্বরে তা গ্রাস করে নেয়।
এই ঘটনায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালতের পদক্ষেপ ও বিরোধীদের অভিযোগ, সব মিলিয়ে আনন্দপুরের ‘জতুগৃহ’ এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার জায়গা নয়, বরং রাজ্য রাজনীতির নতুন সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
