
নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের অশনিসংকেত এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz। আর তার জেরেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় বেড়ে পৌঁছেছে ব্যারেল প্রতি ৮০ মার্কিন ডলারের উপরে। মাত্র দু’দিন আগেও যা ছিল ৭২.৯ ডলার। অর্থাৎ অল্প সময়েই প্রায় ১০ ডলারের উল্লম্ফন।
বিশ্ববাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যে ভারতের উপর পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। কারণ দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি নির্ভর। তার মধ্যে বড় অংশ আসে হরমুজ প্রণালী ঘুরে। সাম্প্রতিক দুই মাসে এই পথের উপর নির্ভরতা আরও বেড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল। ফলে প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার দাম বাড়লে ভারতের বার্ষিক আমদানি খরচ ১৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ভারতীয় মুদ্রায় যা বিপুল অঙ্ক। তবে আপাতত স্বস্তির খবর এই মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেলের খুচরো দামে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রক সূত্র।
সরকারি মহলের ইঙ্গিত, প্রয়োজনে আমদানি শুল্ক বা অন্যান্য লেভি কমিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমানোর চেষ্টা করা হবে। সেই ক্ষেত্রে প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে তেল বিপণন সংস্থাগুলিকেই কিছুটা আর্থিক বোঝা বহন করতে হতে পারে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সিদ্ধান্ত বদলাতেও পারে।
বর্তমানে ভারতের হাতে প্রায় ৭৪ দিনের কৌশলগত তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে বিকল্প পথ খোঁজা ছাড়া উপায় থাকবে না। সূত্রের খবর, আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা ও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে আমদানি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে আমদানি কমার প্রেক্ষাপটও আলোচনায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব রাজনীতির এই টানাপোড়েন যদি আরও তীব্র হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়বে। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতীয় অর্থনীতিতেও। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, তেলের আগুন যে দুশ্চিন্তার রেখা গাঢ় করছে তা স্পষ্ট।
