
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল কাশ্মীর উপত্যকা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মুখ খুললেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। যুদ্ধের কড়া সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোন আন্তর্জাতিক আইন আমেরিকা বা ইসরায়েলকে অন্য দেশে হামলা চালানোর অধিকার দেয়?
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইরানের জনগণ ঠিক করবেন তারা কেমন সরকার চান। ঠিক যেভাবে আমেরিকার মানুষ তাদের প্রেসিডেন্ট বেছে নেন, ইসরায়েলের মানুষ ঠিক করেন কারা ক্ষমতায় থাকবেন এবং ভারতীয়রা তাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন। কোনও আন্তর্জাতিক আইন পেশিশক্তি ব্যবহার করে অন্য দেশের শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের অনুমতি দেয় না।”
ওমর আব্দুল্লাহ খামেনেই ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির তুলনা টেনে বলেন, “যদি এই হামলা সঠিক হয়, তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার পদক্ষেপও সঠিক। এমনকি আগামীকাল ভারত যদি প্রতিবেশী কোনো দেশে প্রবেশ করে, তবে সেটিও কি সঠিক বলে গণ্য হবে? আমি ইরানের জনগণের পাশে আছি এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।”
কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জনগণকে শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি জম্মু-কাশ্মীরের মানুষকে অনুরোধ করব পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে দেবেন না। কিছু অসাধু চক্র এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
নিরাপত্তাবাহিনীর উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, “আমি চাই না পুলিশ বা আধা-সামরিক বাহিনী কোথাও ক্ষমতার অপব্যবহার করুক। সংঘাতের ফলে কেউ আহত বা নিহত হলে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক হবে। এই সময়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।” শান্তি বজায় রাখতে তিনি ধর্মীয় নেতাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীরের শিক্ষার্থীদের ভারতীয় দূতাবাসের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছে কাশ্মীরের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলো। সোমবার বিক্ষোভ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপত্যকার বেশ কিছু এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
