
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত ষষ্ঠ দিনে পদার্পণ করতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মধ্যপ্রাচ্য। বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলের ওপর একঝাঁক মিসাইল হামলা করেছে তেহরান। প্রাণভয়ে লাখ লাখ মানুষ এখন ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ওয়াশিংটনে মার্কিন বিমান হামলা বন্ধের একটি প্রস্তাব রিপাবলিকান সিনেটরদের ভোটে নাকচ হয়ে যায়, যার ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনা আরও অপ্রতিহত হয়ে ওঠে।
এই যুদ্ধ আর দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন সাবমেরিন, যাতে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান থেকে তুরস্কের দিকে ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করেছে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই প্রথম ন্যাটোর কোনও সদস্য দেশ (তুরস্ক) এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ শিকার হল। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, এখনই একে ন্যাটোর ‘সম্মিলিত প্রতিরক্ষা’র বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার পর তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তেহরানে। আলোচনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন খামেনেির শক্তিশালী পুত্র মোজতবা খামেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মোজতবার উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আমেরিকা বা ইসরায়েলের সামরিক চাপের মুখে তেহরান নতিস্বীকার করবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল হুঙ্কার দিয়েছে, যাকে-ই নেতা নির্বাচন করা হোক না কেন, তাকে খুঁজে বের করে নিকেশ করা হবে।
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্তত ২০০টি জাহাজ বর্তমানে উপকূলে নোঙর করে আছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, নৌবাহিনী এখনই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিতে পারছে না, কারণ তাদের মূল লক্ষ্য এখন ‘ইরানি শাসনব্যবস্থাকে নিরস্ত্র করা’। তেলের দাম বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছবে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা প্রায় জনশূন্য। দুবাইয়ের মতো ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে বিশেষ বিমান পাঠাচ্ছে। কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অনেক উদ্ধারকারী বিমান সময়মতো উড়াল দিতে পারছে না।
এদিকে, আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সঙ্গে ইরানি গোয়েন্দা বিভাগের আলোচনার খবর রটেছে। যদিও ইরান এই খবরকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ ও ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত গোটা বিশ্বের নজর এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ওয়াশিংটনের রণকৌশলের দিকে।
