
বাংলা বিধানসভা ভোটে কড়া নজর নির্বাচন কমিশনের, প্রতি দফায় বিশাল বাহিনী, ভুয়ো খবর রুখতে নজরদারি, প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনৈতিক পরিবেশ। West Bengal Assembly Election 2026 সামনে রেখে এবার কঠোর অবস্থানে Election Commission of India। লক্ষ্য একটাই, অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি দফায় প্রায় ২২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। বুথ স্তর পর্যন্ত এই বাহিনী থাকবে, যাতে কোনও ভোটারকে ভয় দেখানো, বাধা দেওয়া বা অশান্তির ঘটনা না ঘটে। শুধু তাই নয়, ভোটকর্মী এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রত্যেকের ছবি সংরক্ষণ করা হবে, হার্ড কপি ও ডিজিটাল, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
ভোটকে ঘিরে ভুয়ো খবর বা গুজব রুখতেও বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্মে নজর রাখা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ইতিমধ্যেই প্রায় ১১২ কোটি টাকার নগদ ও সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যা ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এদিকে, প্রশাসনিক স্তরে একাধিক রদবদল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একতরফাভাবে শীর্ষ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। এই নিয়ে তিনি চিঠিও দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে।
রাজনৈতিক ময়দানেও চলছে প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই বিজেপি তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। শুভেন্দু অধিকারী-কে একসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলও শীঘ্রই তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই প্রথম দফার তালিকা প্রকাশ করেছে এবং সেখানে তরুণ ও মহিলা প্রার্থীদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে উত্তাপ। কঠোর নিরাপত্তা, রাজনৈতিক তরজা, প্রশাসনিক টানাপড়েন, সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬-এর বাংলা বিধানসভা নির্বাচন যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নজরকাড়া হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
