
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ। একদিকে জোরদার প্রচার, অন্যদিকে হিংসার ঘটনা সব মিলিয়ে ভোটের আবহ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। তারই মাঝে কলকাতার বাঘাযতীনে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর শ্যুটআউট, যেখানে প্রাণ হারালেন এক তৃণমূল কর্মী।
বুধবার গভীর রাতে পূর্ব ফুলবাগান এলাকার একটি আবাসনের ছাদে আচমকাই গুলি চলার ঘটনা ঘটে। গুলিতে নিহত হন তৃণমূল কর্মী রাহুল দে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে আরও এক যুবক। ঘটনার পরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাটুলি থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে এই গুলি চলল, তার পেছনে রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কিনা সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার জেরে নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটের আগে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। যদিও শাসকদলের তরফে এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
অন্যদিকে, এই উত্তেজনার মাঝেই রামনবমীর দিন জোরকদমে নির্বাচনী প্রচারে নামতে চলেছে শাসকদল। Mamata Banerjee এবং Abhishek Banerjee দু’জনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জনসভা করার পরিকল্পনা করেছেন।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে দুটি জনসভা করবেন Mamata Banerjee। পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর এবং বীরভূমের দুবরাজপুরে তাঁর সভা হওয়ার কথা। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে তিনটি সভা করবেন Abhishek Banerjee। কোচবিহারের নাটাবাড়ি, জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের কালচিনিতে তাঁর সভা নির্ধারিত হয়েছে।
সব মিলিয়ে রামনবমীর দিন পাঁচটি বড় জনসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে শাসকদলের। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রচার কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ভোটের আগে এভাবে হিংসার ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। একদিকে প্রচারের ঝড়, অন্যদিকে রক্তাক্ত ঘটনা এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে রাজ্যবাসী এখন তাকিয়ে আছে নির্বাচনের দিকে।
