
নির্বাচনের মুখে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পুরুলিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ। রাতের অন্ধকারে বজরংবলীর একাধিক মূর্তি ও বাসন্তী প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। কে বা কারা এই ঘটনার পেছনে, তা নিয়ে জোরদার বিতর্কে সরগরম জেলা রাজনীতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোটশিলা থানার অন্তর্গত মুরগুমা থেকে বেগুনকোদর যাওয়ার রাস্তায় মঙ্গলবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। একাধিক বজরংবলীর মূর্তি ও একটি বাসন্তী প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী এবং দ্রুত তদন্ত শুরু হয়। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করতেই এই ভাঙচুর করা হয়েছে। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব দাবি করে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা বিজেপির সক্রিয় কর্মী এবং সম্প্রতি তাদের বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত চক্রান্ত। ভোটের আগে অশান্তি তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।”
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। পুরুলিয়া বিজেপির জেলা সভাপতি শংকর মাহাতো এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “তৃণমূল নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
এই ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছেন।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরনের ঘটনা পুরুলিয়ার রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন দেখার, তদন্তের শেষে আসল সত্য সামনে আসে কিনা, নাকি এই ঘটনাও রাজনৈতিক দোষারোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
