
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ব নির্বাচনী কৌশল নিয়ে জোর কদম শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটের যাবতীয় দায়িত্ব মন্ত্রী ও কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খানের ওপর দিয়ে দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছিল। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী পাঁচটি ওয়ার্ডের (৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩) দায়িত্ব পেয়েছিলেন, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম তিনটি ওয়ার্ডের (৭৪, ৭৭, ৮২) দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের সব কাজ সম্পূর্ণরূপে জাভেদ খান পরিচালনা করবেন।
এই ওয়ার্ডটি তৃণমূলের জন্য চ্যালেঞ্জিং বলে ধরা হচ্ছে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৎকালীন তৃণমূল সাংসদ সুব্রত বক্সীকে মাত্র ১৭৬ ভোটে পরাজিত করেছিল বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায়। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে না থাকলেও পাঁচ থেকে ছ’টি ওয়ার্ডে বিজেপি শক্ত অবস্থানে ছিল। বিশেষ করে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল বারবার পিছিয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালে এই ওয়ার্ডে বিজেপি ১,৪৬৮ ভোটে এগিয়ে ছিল। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ব সচেতন।
জাভেদ খান বলেছেন, ‘‘আমায় দল ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দিয়েছে। আমি প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের কাছে জানাবো বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রীর কাজগুলো।’’ যদিও তিনি দায়িত্বটি সরাসরি স্বীকার করেননি, তবুও দক্ষিণ কলকাতা তৃণমূল সূত্র বলছে, মূল উদ্দেশ্য হল মুখ্যমন্ত্রীকে ওই ওয়ার্ডে সর্বাধিক ভোটে এগিয়ে রাখা। মেয়র ফিরহাদ হাকিমও নিজের কেন্দ্রের বাইরে ভবানীপুরে দলের প্রচারে নিয়োজিত রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপও রাজ্যের রাজনীতি উত্তপ্ত করেছে। রবিবার মধ্যরাত থেকে কয়েকজন পুলিশ ও আমলাকে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং নতুন আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটি নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভবানীপুর কেন্দ্রের এই রাজনৈতিক কৌশল এবং দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে তৃণমূল শাসকদল ভোটের মাঠে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে প্রস্তুত। ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব জাভেদ খানের হাতে তুলে দেওয়ায় দলের লক্ষ্য মুখ্যমন্ত্রীকে এই কেন্দ্রে শক্তিশালী অবস্থানে রাখা।
