
বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-এর ভবানীপুর রোড শো-তে উত্তেজনার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এই রোড শো শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমার প্রেক্ষিতে আয়োজন করা হয়েছিল। তবে রোড শো চলাকালীন দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট ও হাজরা এলাকায় বিক্ষোভ ও হাতাহাতির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে স্লোগান যুদ্ধ এবং প্রতিবাদ চলে। পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি এফআইআর আলিপুর থানায় দায়ের করা হয়েছে। একটিতে নির্বাচন কমিশনের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মামলা রুজু করা হয়েছে। অপরটি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা। এছাড়া কালীঘাট থানায় আরও একটি স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যোগ্য হলে আরও এফআইআর দায়ের করা হবে।
তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্ত অভিযোগ করেছেন, “নির্বাচন কমিশন মানুষের নাম কেটে বাদ দিচ্ছে এবং বিজেপির দাবি মেনে বিদেশের ভোটারদের ফর্ম ৬ দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সমস্ত শীর্ষ কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হচ্ছে। এর ফলে যখন সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করে, তখন তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে।”
অপরদিকে, বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেছেন, “মানুষ এখন তৃণমূলের সঙ্গে নেই, বরং বিজেপির সঙ্গে আছে। ৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেবেন।”
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের উত্তেজনা সাধারণত নির্বাচনের আগে ও পরে উভয় সময়েই দেখা যায়। কলকাতার এই রোড শোতে তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং বিক্ষোভ নির্বাচনকালীন উত্তেজনার উদাহরণ। পুলিশ ও কমিশন চেষ্টা করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।
এই ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের সতর্কতা জোরদার হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো রোড শো বা জনসভায় উত্তেজনা এড়াতে আগেভাগেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
উল্লেখ্য, ভবানীপুরে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এ কারণে প্রতিটি নির্বাচনী কার্যক্রম এবং জনসভায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হচ্ছে। ভোটের ফল ঘোষণার আগে এই ধরনের ঘটনা আবারও ভোটের উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।
