
কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করে সাধারণ পর্যটক ও যাত্রীদের জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার থেকে মিলেনিয়াম পার্ক এবং সংলগ্ন ফেরিঘাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হাওড়া ও কলকাতার মধ্যে জলপথে যাতায়াতকারী নিত্যযাত্রীদের এতে চরম অসুবিধা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৩০ মার্চ, যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভিনরাজ্যের ভোটারদের নাম বেআইনিভাবে ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে রাজ্যের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর পরদিন, ৩১ মার্চ, বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী সিইও দফতরে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। তৃণমূলের দাবি, পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিজেপি নেতা প্রায় ৪০০টি ফর্ম ৬ নিয়ে দফতরে ঢুকেছিলেন, যা শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা ধরে ফেলেন। ওই দিনই স্ট্র্যান্ড রোডে দুই শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তি বজায় রাখার জন্য মিলেনিয়াম পার্ক ও শিপিং জেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬৩ ধারা জারি করে সীমানা কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিইও দফতরের সামনে যে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুরসভার দুই তৃণমূল কাউন্সিলর এবং কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
শুধু পর্যটক নয়, হাওড়া স্টেশন থেকে আসা বহু মানুষও শিপিং জেটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন। সিইও মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে লালবাজার সতর্ক অবস্থানে আছে।
এই পরিস্থিতি রাজ্যের নির্বাচনী আবহের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। স্ট্র্যান্ড রোড এলাকা নিরাপত্তার দিক থেকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্রভাবে ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং পর্যটন কার্যক্রম সীমিত হলেও প্রশাসনের লক্ষ্য সংঘর্ষ ও অশান্তি রোধ করা।
পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চলবে এবং সেখানকার সাধারণ জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
