
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকায় আদালতের নির্দেশে সমাধিস্থ এক সদ্যোজাত শিশুর দেহ মাটি খুঁড়ে তোলা হল, যা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ঘাটবাওড় শ্মশান থেকে শিশুটির দেহ উত্তোলন করে পুলিশ। পরে সেটি ময়নাতদন্তের জন্য বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর খানেক আগে ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা লক্ষ্মী কুমারীর সঙ্গে বিয়ে হয় বনগাঁর একটি ইটভাটায় কর্মরত লক্ষ্মণ কুমারের। গত ৩০ মার্চ লক্ষ্মী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তবে প্রসবের সময় চিকিৎসকরা জানতে পারেন, ওই তরুণী নাবালিকা। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে জানানো হয়। এরপরই নাবালিকা বিবাহের অভিযোগে লক্ষ্মণ কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরিবারের দাবি, সদ্যোজাত শিশুটির নাম রাখা হয়েছিল সুরাজ কুমার। জন্মের দু’দিনের মধ্যেই সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘাটবাওড় শ্মশানে শিশুটির দেহ সমাধিস্থ করেন।
কিন্তু এই ঘটনার পরেই বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এবং কোনও অসংগতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে আদালত দেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
বনগাঁ মহকুমা আদালত-এর বিশেষ সরকারি আইনজীবী সমীর দাস জানিয়েছেন, পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় পদক্ষেপ করেছে এবং বর্তমানে অভিযুক্ত লক্ষ্মণ কুমার পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশেই তার সন্তানের দেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় একদিকে যেমন নাবালিকা বিবাহের বিষয়টি সামনে এসেছে, তেমনই সদ্যোজাতের মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
