
পূর্ব বর্ধমানের নির্বাচনী সভা থেকে নতুন জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তিনি জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আদলে এবার চালু হতে চলেছে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবা, যার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের বাড়ির কাছেই পৌঁছে যাবে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সুবিধা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যে কৃষকদের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আলু চাষিদের জন্য বিমা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ফসল নষ্ট হলেও তারা আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বন্যার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পর্যাপ্ত সাহায্য পাওয়া যায় না, যার ফলে রাজ্যকে নিজস্ব উদ্যোগেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।
মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলায় এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “মানুষ কী খাবে, তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না।” এছাড়াও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে এবং কাঁচা বাড়িগুলিকে ধাপে ধাপে পাকা বাড়িতে রূপান্তরিত করা হবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও ফের উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “যুবসাথীদের জন্য কাজের ব্যবস্থা আমরা করবই।” তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় সবকিছু নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিরোধী দলগুলি নানা ভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
সভা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অচেনা কারও কাছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য যেন না দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক বাধা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি, অভিযোগ করেন তাঁর সভার অনুমতি দিতেও দেরি করা হয়েছিল।
বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “তারা বিভাজনের রাজনীতি করে এবং নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা পূরণ করে না।” মহিলাদের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন। সবশেষে ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, “প্রার্থী নয়, কাজ দেখে ভোট দিন। ২৯৪টি আসনেই আমিই প্রার্থী।”
