
ভোটের মুখে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভবানীপুর কেন্দ্র। সরকারি জায়গা থেকে রাজনৈতিক দলের পোস্টার খোলা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভে পরিস্থিতি তীব্র হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী, ফলে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনাটি রবিবারের। নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা সরকারি সম্পত্তিতে লাগানো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোস্টার ও ব্যানার সরানোর কাজ শুরু করেন। এই সময় তৃণমূল কর্মীরা অভিযোগ তোলেন যে বেছে বেছে শুধুমাত্র তাদের দলের পোস্টারই খুলে ফেলা হচ্ছে, অথচ বিজেপির পোস্টার অক্ষত রাখা হচ্ছে। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় বিক্ষোভ। কমিশনের কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল সমর্থকরা এবং “জয় বাংলা” স্লোগান তুলতে থাকেন।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা বাবলু সিং জানান, সরকারি জায়গায় অনেক দলের পোস্টার থাকলেও শুধুমাত্র তৃণমূলের ব্যানার সরানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মী পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছেন। তৃণমূল কর্মীদের আরও দাবি, বিজেপি তাদের পোস্টারের ওপর নিজেদের পতাকা লাগাচ্ছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
অন্যদিকে, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ খটিক বলেন, নিয়ম মেনেই সব দলের পোস্টার খোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপির ব্যানারও সরানো হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তিতে কোনও দলেরই পোস্টার লাগানো আইনসিদ্ধ নয়। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল আসন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় অযথা উত্তেজনা তৈরি করছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবানীপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়, যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই সরকারি সম্পত্তি থেকে পোস্টার সরানোর কাজ করছে এবং কোনও নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করা হয়নি। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই কেন্দ্রে মুখোমুখি লড়াই হতে পারে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। ফলে ভোটের আগে এই কেন্দ্রকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
