
গোপাল শীল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। দিনকয়েক আগে অভিমান করে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করা একদল কর্মী-সমর্থক ফের ঘাসফুল শিবিরে ফিরে এলেন। সোমবার সাংসদ বাপি হালদারের হাত ধরে তাঁদের এই ‘ঘরে ফেরা’ রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে তৃণমূলের কিছু পুরনো কর্মী দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই সেখানে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তাঁরা পুরনো দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। বাপি হালদারের উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে তাঁরা জানান, মানুষের পাশে থাকতেই তাঁদের এই প্রত্যাবর্তন।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা বুঝতে পারছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের বিকল্প নেই। তাঁদের মতে, এটি কেবল শুরু; ভোট যত এগিয়ে আসবে, বিরোধী শিবিরে এই ভাঙন আরও তীব্র হবে। সাংসদ বাপি হালদারও কর্মীদের স্বাগত জানিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার ডাক দিয়েছেন।
অন্যদিকে, এই দলবদলকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থেই বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে দেখানো হচ্ছে। বাস্তবে এর ফলে তাদের সংগঠনের বড় কোনও ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিরোধী নেতৃত্ব।
নির্বাচনের প্রাক্কালে রায়দিঘির এই দলবদল ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত দুই শিবিরের তরজায় তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশ।
