
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর আগে নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক ফিরোজা বিবি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও একসময় আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হলেও বর্তমানে তিনি দলের প্রতি অবহেলা ও উপেক্ষার অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ফিরোজা বিবি জানান, এখন আর দল তাঁর খোঁজ নেয় না। এমনকি তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একাধিকবার চিঠি লিখলেও কোনো উত্তর পাননি বলে দাবি করেন। তাঁর কথায়, “দিদিকে চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো জবাব আসেনি। এখন আর কেউ খোঁজও নেয় না।” এই অবহেলা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় ব্যক্তিগত জীবনে বড় ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিলেন ফিরোজা বিবি। ২০০৭ সালের ১৪ মার্চের নন্দীগ্রাম গুলিচালনার ঘটনায় তাঁর ছেলে প্রাণ হারান। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং তাঁকে “শহিদ মাতা” হিসেবে পরিচিতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি ২০০৯ সালে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন এবং ২০১১ সালেও বিধানসভায় নির্বাচিত হন।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে থাকে। ২০১৬ এবং ২০২১ সালে তিনি পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ওই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে আগের মতো সক্রিয় রাজনীতি করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
ফিরোজা বিবির অভিযোগ, বর্তমানে দলের পক্ষ থেকে তাঁর কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয় না। এমনকি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও কেউ যোগাযোগ করেননি বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, “আমি কখনও টিকিট চাইনি। দল আমাকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমার আর কোনো মূল্য নেই।”
তবে অতীত আন্দোলন নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রাম আন্দোলন ভুল ছিল না; এটি ছিল জমি ও অধিকারের লড়াই।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। নন্দীগ্রাম, যা একসময় পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, সেখানে ফিরোজা বিবির এই অভিমানী অবস্থান নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
