
ভোটের ঠিক মুখে ফের চরম বিতর্কে রাজ্য রাজনীতি। ভাইরাল হওয়া একটি ‘স্টিং ভিডিও’কে কেন্দ্র করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিতভাবে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার জন্যই এই ভিডিও তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা দায়েরের অনুমতি পান তিনি। আদালতে তাঁর আইনজীবীর সওয়াল, ভিডিওটি আসল নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বানানো একটি “ষড়যন্ত্রমূলক কনটেন্ট”, যার মাধ্যমে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি আদালতের নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন, যাতে ভিডিওর উৎস ও এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যায়।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং আগামী ২২ এপ্রিল শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই মামলার শুনানি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওই ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর তৈরি হয়। বিভিন্ন পক্ষের দাবি, ভিডিওতে রাজনৈতিক সংযোগ ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত ইঙ্গিত রয়েছে। যদিও হুমায়ুন কবীর শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
তিনি পাল্টা দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করতেই ভুয়ো ভিডিও ছড়ানো হয়েছে। এমনকি তিনি একাধিকবার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে এক টাকারও প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তিনি সব দায় মেনে নেবেন।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের ভিডিও ও পাল্টা অভিযোগ জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা। অন্যদিকে বিরোধীরা দাবি করছে, বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে মামলার সময়কাল নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ২২ এপ্রিল শুনানি এবং তার পরদিনই রাজ্যে প্রথম দফার ভোট, ফলে আদালতের যেকোনো পর্যবেক্ষণ বা নির্দেশ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্টিং ভিডিও বিতর্ক এখন শুধু আইনি লড়াই নয়, ভোটের মুখে তা পরিণত হয়েছে এক বড় রাজনৈতিক অস্ত্রে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
