
কোচবিহারের ঘোকসাডাঙ্গার ছোটশিমূলগুড়ি গ্রাউন্ডে নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতি ও প্রস্তাবিত বিলের আড়ালে আসলে পশ্চিমবঙ্গকে ভাগ করার “গোপন পরিকল্পনা” চলছে।
মমতার দাবি, বিশেষ করে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলের সঙ্গে জনবিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা তাঁর মতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর বক্তব্য, “৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ আমরা সমর্থন করি, কিন্তু তার সঙ্গে জনবিন্যাস কেন জুড়ছে? এর পিছনে কি বাংলাকে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে?”
সভা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিকে ধীরে ধীরে মূল রাজ্য থেকে আলাদা করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁর আশঙ্কা। তিনি কোচবিহার, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর এবং শিলিগুড়ির নাম উল্লেখ করে বলেন, “একদিন দেখবেন কোচবিহার, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর হারিয়ে গেছে মানচিত্র থেকে। এদের লজ্জা, ভয় কিছুই নেই।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি নির্বাচনের আগে “ভয় দেখানোর কৌশল”। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির আড়ালে জনসংখ্যা পুনর্বিন্যাস এবং ভোটার তালিকা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়েই এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই বিলে বলা হয়েছিল, জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাস করে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু এখন কেন্দ্র ২০১১ সালের জনসংখ্যা তথ্যের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের চিন্তা করছে বলে দাবি উঠেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে। উত্তরবঙ্গ ইস্যু, জনবিন্যাস এবং সংরক্ষণ এই তিনটি বিষয়ই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
মুখ্যমন্ত্রীর “উত্তরবঙ্গ হারিয়ে যাওয়ার” মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। এই ইস্যু আগামী দিনে ভোটের লড়াইকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
