
ঝাড়গ্রামে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নির্ধারিত সভা শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়ে যাওয়াকে ঘিরে রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝাড়গ্রাম সফরকে কেন্দ্র করেই প্রশাসনিকভাবে ‘নো ফ্লাই জ়োন’ তৈরি করা হয়, যার জেরেই হেমন্ত সোরেনের হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারেনি।
ঘটনার দিন ঝাড়গ্রামে বিজেপির নির্বাচনী সভায় অংশ নিতে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অভিযোগ, তাঁর সফরসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় নিরাপত্তাজনিত কারণে আকাশপথে কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়। সেই সময়ই ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের একটি জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল হেমন্ত সোরেনের। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও অনুমতি না মেলায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে রাঁচির দিকে ফিরে যেতে হয়।
তৃণমূলের দাবি, সোরেন দম্পতি হেমন্ত সোরেন এবং তাঁর স্ত্রী কাল্পনা সোরেন আগেই নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেছিলেন। কেশিয়াড়িতে একটি সভা শেষ করার পর তাঁদের ঝাড়গ্রামে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমতি না মেলায় সেই কর্মসূচি ভেস্তে যায়। দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে সময়সূচি দীর্ঘ করে রাখা হয়েছিল, যাতে বিরোধী শিবিরের সভা প্রভাবিত হয়।
ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বহু মানুষ বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের কর্মী-সমর্থকরা সোরেনের বক্তব্য শোনার জন্য জমায়েত হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সভা বাতিল হওয়ায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিযোগ করেন, “নিরাপত্তার অজুহাতে হেলিকপ্টারকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। সব নিয়ম মেনেই অনুমতি চাওয়া হয়েছিল, তবুও বাধা দেওয়া হয়।”
ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ঝাড়গ্রাম সফরের একটি দৃশ্য। হেলিপ্যাডে যাওয়ার পথে মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার একটি মুহূর্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কটাক্ষ করে দাবি করেছে, এটি একটি ‘সাজানো রাজনৈতিক প্রদর্শনী’।
অন্যদিকে বিজেপির তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা বিধি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে কেশিয়াড়িতে বক্তব্য রেখে হেমন্ত সোরেন ফিরে যান ঝাড়খণ্ডে। তবে তাঁর ঝাড়গ্রাম সফর বাতিলকে কেন্দ্র করে এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘নো ফ্লাই জ়োন’ সত্যিই নিরাপত্তার বিষয় ছিল, নাকি রাজনৈতিক কৌশল এই প্রশ্নেই এখন সরগরম বঙ্গ-রাজনীতি।
