
ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেই বিশ্ববাজারে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে তেলের দামে সাময়িক পতনের মাধ্যমে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বস্তি এখনও অনিশ্চিত এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে প্রায় ১ শতাংশ পতন ঘটে, যা ব্যারেলপ্রতি ৯৪.৫৩ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, পশ্চিম টেক্সাস সূচকের তেলের দামও কমে যায়। মে মাসের চুক্তি অনুযায়ী দাম দাঁড়ায় ৮৮.০৭ ডলার এবং জুন মাসের চুক্তি কমে ৮৬.৩৭ ডলারে নেমে আসে। এই পতন আসে আগের দিনের তীব্র বৃদ্ধির পর, যখন তেলের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়ে যায়।
সোমবার তেলের বাজারে বড়সড় অস্থিরতা দেখা দেয়। ইরানের হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং আমেরিকার একটি ইরানি জাহাজ আটক করার ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পায়, যা বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে। জানা গেছে, ইরান ও আমেরিকা দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে পারে এবং সেই বৈঠক পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।
এই খবর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই আলোচনা সফল হয়, তবে বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়তে পারে এবং তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।
তবে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ইরান অভিযোগ করেছে, আমেরিকা বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে, যা আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একই সঙ্গে তারা স্পষ্ট করেছে যে, চাপ বা হুমকির মুখে কোনও আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।
হরমুজ প্রণালী এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, যা বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে কোনও সমস্যা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে।
এখন বিশ্ববাজারের নজর কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে। আলোচনায় সাফল্য এলে তেলের দামে স্বস্তি বজায় থাকতে পারে, নচেৎ আবারও অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
