
ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা ও প্রভাব খাটানো ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে সাইলেন্স পিরিয়ড শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকা ছাড়তে হবে ‘বহিরাগত’ রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের—এমনই নির্দেশ জারি হয়েছে চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের দফতর থেকে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে এবং দ্বিতীয় দফার ভোটের ক্ষেত্রে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে সাইলেন্স পিরিয়ড। এই সময়সীমা শুরু হওয়ার পর কোনও রাজনৈতিক দলই আর জনসভা, মিছিল বা লাউডস্পিকারের মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবে না। মূল উদ্দেশ্য, ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোটারদের ওপর অযাচিত প্রভাব বন্ধ করা।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হল, এই সময়ের মধ্যে এলাকার বাইরের রাজনৈতিক কর্মী বা সমর্থকদের সেখানে থাকতে দেওয়া হবে না। কমিশনের মতে, অনেক সময় বাইরে থেকে লোক এনে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়। সেই প্রবণতা রুখতেই এই কড়াকড়ি।
এছাড়া প্রশাসন ও পুলিশকে যৌথভাবে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউসগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। যদি দেখা যায়, কেউ ওই কেন্দ্রের ভোটার নন অথচ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা ও আন্তঃরাজ্য সীমান্তেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফ্লাইং স্কোয়াড ও স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিমকে প্রতিটি যানবাহন খুঁটিয়ে তল্লাশি করতে বলা হয়েছে।
তবে এই নিয়ম সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়। স্থানীয় বাসিন্দা, সরকারি কর্মচারী এবং যাঁদের কাছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অনুমতিপত্র বা পাস রয়েছে, তাঁদের চলাচলে কোনও বাধা থাকবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
কমিশনের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষ ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। একইসঙ্গে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে—যদি কোনও আধিকারিক এই নির্দেশ মানতে গাফিলতি করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটের আগে প্রশাসনিক কড়াকড়ি যে আরও বাড়ছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই নতুন নিয়ম বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটের পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ রাখা যায়।
