
আম আদমি পার্টির ভাঙন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। একযোগে সাত জন রাজ্যসভার সাংসদের ইস্তফার পর এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তাঁর নিশানায় দলের সর্বোচ্চ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কড়া ভাষায় তিনি দাবি করেছেন, যে দল সাধারণ মানুষের স্বার্থে লড়াইয়ের কথা বলে পথচলা শুরু করেছিল, সেখানে এখন আর ‘আম আদমি’ নেই রয়ে গিয়েছে শুধু দুর্নীতিবাজদের ভিড়।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে রেখা গুপ্তা লেখেন, “রাজ্যসভার দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের দলত্যাগ আপনার একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে বড় চপেটাঘাত।” তাঁর আরও দাবি, এই ভাঙন প্রমাণ করে দলের ভিতরে গভীর অসন্তোষ জমে ছিল অনেকদিন ধরেই। শুধু দিল্লি নয়, পঞ্জাবেও আম আদমি পার্টি-র জমি নড়বড়ে হয়ে উঠছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল-সহ একাধিক হেভিওয়েট সাংসদ দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাঘব চাড্ডা, হরভজন সিং, স্বাতী মালিওয়াল, রাজেন্দ্র গুপ্ত, বিক্রম সাহনি প্রমুখ। দলত্যাগীদের অভিযোগ, কেজরিওয়াল দলকে তার মূল আদর্শ থেকে সরিয়ে এনেছেন এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রায় বিলুপ্ত।
বিশেষ করে রাঘব চাড্ডার প্রস্থান রাজনৈতিক মহলে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি নিজেকে “ভুল দলে সঠিক মানুষ” বলে ব্যাখ্যা করে স্পষ্ট জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলের নীতিগত অবস্থান নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরানো এবং দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর ভূমিকা কমিয়ে দেওয়াই এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় পাল্টা সুর চড়িয়েছে আম আদমি পার্টিও। দলের দাবি, এটি আসলে বিজেপির পরিকল্পিত ‘অপারেশন’, যেখানে কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপ সৃষ্টি করে সাংসদদের দলত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তবে বিরোধীরা এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, এটি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংকটের ফল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙন শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, ভাবমূর্তির দিক থেকেও কেজরিওয়ালের জন্য বড় ধাক্কা। একসময় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠা দল আজ নিজেই সেই অভিযোগের মুখে পড়েছে, এই বার্তাই এখন জোরালোভাবে সামনে আসছে।
দিল্লির ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখার পাশাপাশি এখন নিজের দলকে অটুট রাখা, এই দুই চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে সামলাতে হবে কেজরিওয়ালকে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে গোটা দেশ।
