
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের দাবিতে করা আবেদনকে সরাসরি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়ে দেয় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ।
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, শুভেন্দু অধিকারী একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা হয়েও বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন, যা ভোটের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে ভবানীপুর ও মেদিনীপুরের সভায় তাঁর দেওয়া কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ধর্মীয় প্রসঙ্গ টেনে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যা নির্বাচন আচরণবিধির পরিপন্থী।
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছিল। মামলাকারীর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, এই ধরনের বক্তব্য ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
তবে শুনানির সময় আদালত মামলাকারীর কাছে জানতে চায়, ঠিক কোন সাংবিধানিক ধারার ভিত্তিতে এই আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু মামলাকারীর আইনজীবীরা নির্দিষ্ট কোনও ধারা বা শক্ত আইনি ভিত্তি তুলে ধরতে পারেননি। ফলে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আইনগত ভিত্তি না থাকায় এই মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়। ফলে প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি কার্যত ধাক্কা খায় আদালতে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী একসঙ্গে দুটি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে ভোট ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ২৯ এপ্রিল ভবানীপুরে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই রায় রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ভোটের একেবারে আগে আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিরোধী শিবিরের জন্য বড় স্বস্তির বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে শাসক শিবির এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
ভোটের উত্তাপের মাঝেই আদালতের এই রায় নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল।
