
মানুষের জীবন কখনও হঠাৎ থেমে যায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায়, আবার বিজ্ঞান ও চিকিৎসার হাত ধরে সেই জীবনই ফিরে আসে নতুন আলো নিয়ে, দিল্লির এক হাসপাতালের সাম্প্রতিক সাফল্য যেন সেই কথাই আবার প্রমাণ করল। এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই হাত হারানো এক দুই সন্তানের মায়ের জীবনে ঘটল অবিশ্বাস্য পরিবর্তন। ব্রেন-ডেড এক দাতার হাত প্রতিস্থাপন করে তাঁকে নতুন জীবন দিলেন চিকিৎসকেরা।
জানা গিয়েছে, খড় কাটার মেশিনে কাজ করার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ওই মহিলা তাঁর দুটি হাতই হারান। এরপর দীর্ঘদিন তিনি সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। স্বাভাবিক জীবন কার্যত থেমে যায় তাঁর। ঠিক সেই সময়েই দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালের চিকিৎসকেরা শুরু করেন এক অসাধারণ উদ্যোগ।
মরণোত্তর দাতার হাত ব্যবহার করে ওই মহিলার দুই হাতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এই অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে চলে এই সার্জারি, যেখানে প্লাস্টিক সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, নিউরোলজি, অ্যানেস্থেসিয়া ও অন্যান্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা একসঙ্গে কাজ করেন।
চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দাতার হাতকে গ্রহীতার শরীরের সঙ্গে নিখুঁতভাবে যুক্ত করা। হাড় জোড়া লাগানো, রক্তনালির সংযোগ, স্নায়ু মেলানো, সবই করতে হয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে। একটুও ভুল হলে হাতের কার্যকারিতা ফিরে পাওয়া সম্ভব হতো না।
ডাক্তারদের মতে, অস্ত্রোপচার সফল হলেও এখনই পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়া সহজ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ফিজিওথেরাপি, ওষুধ এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে ওই মহিলাকে। ধীরে ধীরে তাঁর হাতের অনুভূতি ও চলাচল ফিরবে বলে আশা করছেন চিকিৎসকেরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সাফল্যের জন্য দাতার পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তাঁদের সিদ্ধান্তের কারণেই এক অসহায় মা আবার নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ পেলেন।
চিকিৎসকদের ভাষায়, এটি শুধু একটি অস্ত্রোপচার নয়, বরং মানবতার জয়। মৃত্যুর পরও একজন মানুষের অঙ্গ যে অন্যের জীবনে আলো ফিরিয়ে আনতে পারে, এই ঘটনা সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করল।
বর্তমানে ওই মহিলা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং স্বপ্ন দেখছেন, খুব শিগগিরই তিনি আবার নিজের হাতে তাঁর সন্তানদের স্পর্শ করতে পারবেন।
