
খড়্গপুর: ফের এক ছাত্রমৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গেল Indian Institute of Technology Kharagpur ক্যাম্পাসে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে। মঙ্গলবার সকালে এক এমটেক পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয় হোস্টেল থেকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম সোহম হালদার। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বাসিন্দা এবং আইআইটি খড়্গপুরে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমটেকের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। থাকতেন ‘মদনমোহন মালব্য হল’-এ।
সকালে দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় সহপাঠীদের সন্দেহ হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই তাঁরা সোহমের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে কী কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই ঘটনা সামনে আসতেই ফের আলোচনায় ক্যাম্পাসের মানসিক চাপ ও ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টি। কারণ, এর আগেও গত ১৮ এপ্রিল একই ক্যাম্পাসে আর এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনায় তৃতীয় বর্ষের ছাত্র জয়বীর সিংহ ডোডিয়ার দেহ উদ্ধার হয় হোস্টেলের কাছ থেকে। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরও এই প্রতিষ্ঠানে একাধিক ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ফলে পরপর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষার চাপ, একাকীত্ব এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা এই সব বিষয়গুলিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এই ঘটনার পর ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শুধু তদন্ত নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করতে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
