
ভোটের দ্বিতীয় দফার সকালে ভবানীপুরে বুথে বুথে ঘুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকাল থেকেই তিনি বিভিন্ন বুথে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং একাধিক জায়গায় ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মমতার অভিযোগ, ভোটের আগের রাত থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় “অত্যাচার” চালাচ্ছে এবং শাসকদলের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। মোবাইল ফোনে কিছু ঘটনার ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে পরিকল্পিতভাবে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “এখনও আমি চেয়ারে আছি… দলের চেয়ারেও আছি। আমরা চাই ভোটটা শান্তিপূর্ণ হোক, মানুষ যেন নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু যা হচ্ছে তা মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে রাতের বেলা কেন্দ্রীয় বাহিনী কাউন্সিলরের বাড়িতে ঢুকে তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেছে এবং মোবাইল ফোন পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি “গণতন্ত্রের উপর আঘাত” বলে আখ্যা দেন।
শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, নির্বাচন কমিশনের কিছু পর্যবেক্ষকের ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, বাইরের রাজ্য থেকে আসা কিছু আধিকারিক স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন এবং তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বলছেন।
ভাঙড় ও বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এভাবে চাপ সৃষ্টি করে ভোট করানো যায় না।”
তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখার বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, তৃণমূল কর্মীরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
ভবানীপুরে ভোটের সকালেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছায়, যেখানে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
