
পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হতেই অশান্তির ছবি সামনে এল নদিয়ার চাপড়া এলাকায়। বুধবার সকালেই ৫৩ নম্বর বুথের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়, যেখানে এক বিজেপি এজেন্টের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত এজেন্টের নাম মোশারফ মীর। অভিযোগ, তিনি বুথে যাওয়ার সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় তাঁর মাথায়, ফলে গুরুতর চোট লাগে এবং রক্তপাত শুরু হয়। আহত অবস্থায় দ্রুত তাঁকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
আহত মোশারফ মীরের দাবি, তিনি অন্যান্য এজেন্টদের সঙ্গে বুথে যাচ্ছিলেন, সেই সময় কয়েকজন তাঁকে তাড়া করে এবং মারধর শুরু করে। এই ঘটনায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিজেপি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, এবারের West Bengal Assembly Election 2026-এর প্রথম দফার ভোট মোটের ওপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও সেই সময় স্বস্তির বার্তা দিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে থেকেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে।
চাপড়ার এই ঘটনার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও অশান্তির খবর মিলেছে। ভাঙড়ে আইএসএফ কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে এক মহিলা-সহ চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ, ভোটারদের হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদ করতেই তাঁদের উপর হামলা করা হয়। আবার দেগঙ্গায় তৃণমূল প্রার্থীকে তাড়া করার ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে ভোট কেনার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার ভোটে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের কারণেই বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে। তবে প্রশাসনের দাবি, সব জায়গাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভোটের সকালেই নদিয়ার এই ঘটনা রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এখন নজর থাকবে, বাকি সময়টা কতটা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় তার উপর।
