
কলকাতা: ভোটের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘মাছ চোর’ গান ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লাকে নিয়ে তৈরি এই গানকে কেন্দ্র করে এবার আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন তিনি। খুব শীঘ্রই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন শওকত।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া গানটিতে শওকত মোল্লাকে ‘মাছ চোর’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। ভোট শুরুর কয়েকদিন আগেই গানটি ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তবে গানটির স্রষ্টা কে বা কোথা থেকে এটি তৈরি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই প্রসঙ্গে শওকত মোল্লা বলেন, রাজনৈতিক লড়াই হওয়া উচিত রাজনৈতিক ময়দানে। ব্যক্তিগত কুৎসা রটিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা তিনি মেনে নেবেন না। তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
গানটি ছড়িয়ে পড়ার পর ভাঙড়ের আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকিও দলীয় কর্মীদের এমন গান প্রচার না করার অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা যায়। তবে সেই অনুরোধে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মাধ্যমে গানটি এখনও সমানভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
শওকতের অভিযোগ, এই গান ভাইরাল করার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূলের একাংশ এবং আইএসএফ দুই দিক থেকেই তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে পাল্টা তরজা।
প্রসঙ্গত, এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তৃণমূলেরই এক নেতা শওকত মোল্লাকে ‘মাছ চোর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই মন্তব্যের পর থেকেই এই শব্দবন্ধটি রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। পরে তা নিয়েই তৈরি হয় গান, যা এখন ভোটের মরসুমে বিশেষ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নির্বাচনের মতো গুরুতর প্রক্রিয়ার মধ্যে এমন গান কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভোটের আগে এই ‘মাছ চোর’ গান রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এর জেরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে, তা বলাই যায়।
