
বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে এবার বড় পর্দায় আসছে বহু আলোচিত ও বিতর্কিত ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক বিতর্কের পর অবশেষে বাংলার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে এই চলচ্চিত্র। নির্মাতাদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে ছবিটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য একাধিক হলে প্রদর্শনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরেই ছবিটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে বাংলায় ছবিটির প্রদর্শন বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। এমনকি ট্রেলার লঞ্চ নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন নির্মাতারা। তাঁদের বক্তব্য, একাধিকবার বাধার মুখে পড়লেও তারা হাল ছাড়েননি এবং শেষ পর্যন্ত আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে মুক্তির পথ তৈরি করেছেন।
পরিচালকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র কলকাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার দর্শকের কাছেও ছবিটি পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রযোজনা সংস্থার দাবি, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং একটি সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি কাহিনি। তাই দর্শকের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও তারা আশাবাদী।
অন্যদিকে, ছবিটির মুক্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন করে তরজা। এক পক্ষের দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারমূলক কাজ, অন্য পক্ষ আবার বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে ছবিটির প্রদর্শন হওয়া উচিত। এই দ্বন্দ্বে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।
শুক্রবার কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটির প্রথম প্রদর্শনীর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি দেখানোর প্রস্তুতিও চলছে। হল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দর্শকের আগ্রহ ও কৌতূহল এই ছবিকে ঘিরে অনেক বেশি, তাই তারা প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’-এর মুক্তি রাজ্যের চলচ্চিত্র জগতে যেমন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন নজর দর্শকের প্রতিক্রিয়ার দিকে, ছবিটি শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
