
রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য ছড়ানো চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে। বুধবার মধ্যমগ্রামে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এবার দ্বিতীয় একটি মোটরবাইক উদ্ধার করেছে পুলিশ। বারাসতের ১১ নম্বর রেলগেটের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ওই বাইককে ঘিরে আরও জোরদার হয়েছে তদন্তের গতি।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এতে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন জড়িত থাকতে পারে। মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৬ থেকে ১০ রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই পুরো অপারেশনের পিছনে ভিনরাজ্যের পেশাদার শার্প শুটারদের হাত থাকতে পারে।
ঘটনাস্থলের আশপাশে ছড়িয়ে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পেরেছে, একটি সিলভার রঙের গাড়ি এবং একাধিক বাইক ব্যবহার করে হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে আসে ও পালায়। পরে সেই গাড়িটি উদ্ধার হলেও সেটির নম্বরপ্লেট ভুয়ো বলে জানা গেছে। একইভাবে উদ্ধার হওয়া মোটরবাইকটির ক্ষেত্রেও নম্বর ও চেসিস নম্বর নষ্ট করার চেষ্টা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তের অগ্রগতিতে আরও জানা গেছে, খুনের আগে নিয়মিতভাবে ভুক্তভোগীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। এই তথ্য আদানপ্রদানে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির ভূমিকা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার আগে ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও পরিবার সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি, এসটিএফ এবং আইবি-কে নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। গোটা এলাকা জুড়ে চলছে তল্লাশি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ।
গোয়েন্দাদের ধারণা, হামলাকারীরা পরিকল্পনা করেই রেকি করে এই অপারেশন চালায় এবং ঘটনার পর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে পালিয়ে যায়। এমনকি সীমান্ত পেরিয়ে অন্য রাজ্য বা পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারীরা।
এই ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই ঘটনার পেছনের পুরো চক্রের হদিশ মিলতে পারে বলে তারা আশাবাদী।
