
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন, সেখানে একের পর এক নেতার মুখে উঠে আসছে দলের ভিতরের অসন্তোষ এবং দুর্নীতির অভিযোগ। এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূলের পতনের পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ দুর্নীতি এবং কাটমানির রাজনীতি।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে নাড়ুগোপাল বলেন, “দলের একেবারে গ্রাসরুট স্তর পর্যন্ত দুর্নীতি ছড়িয়ে গিয়েছিল। পঞ্চায়েত থেকে বুথ স্তর সর্বত্র টাকা ছাড়া কাজ হত না।” তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ কোনও পরিষেবা বা সরকারি সুবিধা পেতে গেলেই একাধিক স্তরে টাকা দিতে বাধ্য হতেন। এমনকি একটি পাড়ায় ঢালাই রাস্তার কাজ করাতেও টাকা নেওয়া হত বলে দাবি করেন তিনি।
তৃণমূল নেতার কথায়, “রাজ্যে যদি ৮০ হাজার বুথ থাকে, তবে ৮০ হাজার বুথ সভাপতির বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। একজন নয়, ধাপে ধাপে সবাই টাকা নিত। মানুষ কোথা থেকে এত টাকা দেবে?” তবে তিনি এ-ও বলেন, ফিরহাদ হাকিমের মতো কিছু বড় নেতা ব্যক্তিগত ভাবে টাকা নিতেন না।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগ উঠে আসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। নাড়ুগোপালের দাবি, কলকাতায় অভিষেকের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও কর্মীদের টাকা দিতে হত। তপসিয়ার পার্টি অফিসেও একই ছবি ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “অভিষেকের অফিসে গেলেই টাকা লাগত। আবাস যোজনার টাকাতেও ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়েছে।”
তবে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করেছেন নাড়ুগোপাল। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু নিচুতলায় দুর্নীতি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।”
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল পরিচালিত না হলে অতীতে অনেক পৌরসভা বা পঞ্চায়েত সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল।
নাড়ুগোপালের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে আক্রমণ শুরু করেছে। অন্যদিকে, দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
