আচমকা আপনার কাছে কোনও অচেনা নম্বর থেকে কেউ ফোন করলেন পরিচিত একজনের রেফারেন্স দিয়ে। জানালেন একটা অনুষ্ঠান রয়েছে, ফলে আপনার সাহায্য প্রয়োজন। পরিচিত লোকের নামটা জানতে পেরে আপনি কথাও বলতে শুরু করলেন। তিরিশ সেকেন্ডও কাটলো না, অজানা ওই ব্যক্তি আপনাকে ফের বললেন, প্রতারকরা আপনাকে বলবে আপনার সেই পরিচিত আপনাকে অন্য একটা নম্বর থেকে ফোন করেছে, আপনি কলটা মার্জ করিয়ে নিন। তা হলে তিনজনে একসঙ্গে কথা বলা যাবে। এই পদ্ধতিতে একটি কল করে পরিচিত কারও রেফারেন্স দিয়ে আপনাকে ফোনে ধরে নিচ্ছেন তিনি। ততক্ষণে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাবা মারার জন্য নিজের ল্যাপটপ খুলে রেডি হয়ে গিয়েছেন। ও প্রান্ত থেকে যেটি আপনার পরিচিতের কল বলা হয়েছে, আসলে সেটা আপনাকে ব্যাঙ্কের থেকে ওটিপি জানানোর ফোন। এখন অনেক ক্ষেত্রে টেক্সটের মাধ্যমে ওটিপি না এলেও ভয়েসের মাধ্যমে সেই ইনফরমেশন দেওয়া হয়। ফলে কলটি মার্জ করার সঙ্গে সঙ্গে ভয়েস মারফত যে ওটিপি জানা যায়, তা স্পষ্ট শুনতে পেয়ে যান প্রতারক, যাতে সাহায্য করছে এআই । আপনি কিছু বুঝে ওঠার আগে সেই ওটিপি বসানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনার ব্যাঙ্কের খাতা প্রতারকের কাছে ওপেন হয়ে যায়। আর অপরাধীও ব্যাঙ্কে ইচ্ছেমত নির্দেশ পাঠিয়ে সেখান থেকে টাকা তুলে নিতে পারেন। বিনা ওটিপিতে কী ভাবে সাধারণ মানুষের টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে, সম্প্রতি এই মামলার তদন্তে নেমে সাইবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেন পুলিশ কর্তারা। তাতেই জানা যায় এ ভাবে ভয়েস কলের সাহায্য নিয়ে ওটিপি জেনে নিচ্ছে সাইবার প্রতারকরা। এরপর ফোন নিজে থেকে কেটে গেলেও কিছু করার থাকছে না। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই পদ্ধতি সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্যই করা হয়েছিল। কিন্তু তারও অপব্যবহার করছে সাইবার অপরাধীরা। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এই ধরনের অপরাধ বন্ধে অচেনা–অজানা লোকের ফোন নম্বর বিশ্বাস করে কল মার্জ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
