এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫,৭৫৩ জনের পুরো নিয়োগ তালিকার প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিসন বেঞ্চ। কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিসন বেঞ্চ এই প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার সহ বঞ্চিত চকৃপ্রর্থিরা। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি ও কারচুপি হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন বিশ্বাসযোগ্যতা নেই জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার বেঞ্চ। একইসঙ্গে বেআইনি চাকরি প্রাপকদের বেতন ফেরতেরও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
২২ এপ্রিল ২০২৪ হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ এই প্যানেল বাতিলের রায় দেন। 281 পাতার রায়দানে হাইকোর্ট জানায়
2014 সালের ssc পরীক্ষার 2016 সালে যে প্যানেল তৈরি করা হয়েছে সেখানে
এভিডেন্স বা তথ্য বিকৃতি, সুপার নিউমেরারি পোস্ট, নকল OMR শিট তৈরি সহ ১৭ টি বেআইনি কাজ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ধরা পড়েছে। সেকারণেই সব কিছু খতিয়ে দেখে বেআইনিভাবে পাওয়া চাকরি বাতিল করা হল। “আমাদের কোনো উপায় ছিল না” জানান বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও শব্বর রশিদির ডিভিসন বেঞ্চ।
15 দিনের মধ্যে নতুন করে নিয়োগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। সম্পূর্ণভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুনভাবে নিয়োগের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। শুধুমাত্র ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি বহাল রাখে ডিভিসন বেঞ্চ। উল্লেখযোগ্য,
সোমা দাসের চাকরির নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পাশাপাশি হাইকোর্ট জানায় সিবিআই যদি প্রয়োজন মনে করে বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে যে কাউকে হেফাজতে নিতে পারে।
নবম দশম একাদশ দ্বাদশ গ্রুপ সি গ্রুপ ডি সব মিলিয়ে ২৫,৭৫৩ চাকরিপ্রাপ্ত ও চাকরি প্রার্থীর প্যানেল বাতিল করে হাইকোর্ট।
সুপার নিউমেরারি পোস্ট তৈরিতে যারা যুক্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারবে cbi বলেও জানানো হয়।
24640 ঘোষিত শূন্যপদ। তার থেকে বেশি নিয়োগ হয় এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। সেক্ষেত্রে গাজিয়াবাদ থেকে সিবিআই যে OMR উদ্ধার করেছিল তাকেই মান্যতা দেয় হাইকোর্ট।
এসএসসি প্যানেল বাতিল নিয়ে হাইকোর্টের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দুদিনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিফ পিটিশন দায়ের করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তর পরদিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এসএসসি। সেই মামলার শুনানি শেষে আজ হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট।
