সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
প্রায় ২৬ হাজার চাকরির বাতিলের সুপ্রিম নির্দেশের পর পরবর্তী রোড ম্যাপ তৈরি করতে তৎপর নবান্ন। ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্যানেল সম্পূর্ণ বাতিল বলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেই চাকরি হারাদের ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কারণেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরেই তড়িঘড়ি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সহ একাধিক মন্ত্রীবর্গ এবং মুখ্য সচিব কে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। নবান্ন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এসএসসি নিয়োগ তালিকা নিয়ে পরবর্তী রোডম্যাপ কি হবে? চাকরি হারা বা চাকরি প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কিভাবে সুরক্ষিত করা যায়? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকারের দিকে স্বাভাবিকভাবেই যে আঙ্গুল তোলা হচ্ছে তা প্রতিহত করতে কোন পথে এগোনো যাবে? আদালতের এই নির্দেশের পর রাজ্যে স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সমস্যা একটা বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির সমাধানের পথ খুঁজতে এই জরুরী বৈঠক দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে এই নিয়োগ প্যানেল তৈরি হয়েছিল। যে প্যানেল তৈরিতে ১৭ টি ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রমাণ মিলেছে বলে আগেই জানিয়েছিল হাইকোর্ট। কারা যোগ্য কারা অযোগ্য সেটা বাছাই করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল এসএসসি কে। সুপ্রিম কোর্টে যখন মামলা করায় তখনও যোগ্য অযোগ্যদের বাছাইয়ের প্রশ্ন তোলেন দেশের প্রধান বিচারপতি। যদিও শেষ পর্যন্ত সঠিকভাবে বাতাইয়ের কাজ সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল হলেও পুনরায় নিয়োগের জন্য তিন মাসের সময়সীমা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যে শিক্ষক সমস্যার সমাধানের একটি রাস্তা রেখেছেন।
