অভিজিৎ বসু
চাকরি পাওয়া আর চাকরি চলে যাওয়া এই দুই এর মধ্য ফারাক আকাশ আর পাতাল। আর সেই অর্জিত সরকারি চাকরি পাওয়া যদি নিজের যোগ্যতায় আর ক্ষমতায় হয় তাহলে তো কোনোও কথাই নেই। আর সেই নিজের যোগ্যতা অর্জন করে সেই চাকরি পাওয়া সেই চাকরি আদালতের আদেশে হঠাৎ করেই চলে যাওয়া। সেটা তো আরও বেশি যন্ত্রণার ও কষ্টের বিষয়। প্রায় ২৬ হাজার চাকরি চলে যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্য হৈ চৈ হুল্লোড় পড়ে গেছে চারিদিকে এখন। সরকার পক্ষ তৎপর হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে সেটা নিয়ে ঘুঁটি সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নবান্নে চলছে জোর কদমে আলোচনা। সাংবাদিক বৈঠক করে সবকিছুর ব্যাখ্যা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহীদ মিনারের সামনে যাঁরা দিনরাত আন্দোলন করলেন নিজেদের চাকরি বাঁচাতে। এই চাকরি বাতিলের খবরের পর তাঁরাও ভেঙে পড়লেন কান্নায় একদম। জেলায় জেলায়, স্কুলে স্কুলে চাকরি করা শিক্ষক শিক্ষিকারাও কী করবেন বুঝতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাঁরাও। সুদূর মাদুরাই থেকেই ২৪ তম পার্টি কংগ্রেস এর স্থল থেকেই চাকরি হারা মানুষের জন্য পাশে থাকার বার্তা দিল সেই লাল পার্টির সিপিএম নেতারা গুরু গম্ভীর মুখে একদম সিপিএমের স্টাইলে। মোবাইলে বার্তা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির ছোটো বড়ো নানা মাপের নেতারা। আর যে সরকার এর আমলে এই চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো আদালতের নির্দেশে। সেই মা মাটির মানুষের সরকার এর মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই তিনি ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মিছিল অন্দোলন এর ডাক দিয়েছেন। রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাহলে কি অনেকটাই নিশ্চিন্তে নিরাপদে আছেন রাজ্যের শাসক দল এই ঘটনার পরেও।
যেখানে সামনের বছর বিধানসভার ভোট দরজায় কড়া নাড়ছে সেখানে এত বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটার পরেও কি করে এতটা নিশ্চিত সরকার। এটাই হলো এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। আন্দোলন যাঁর রক্তে সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যিনি একদিন বামফ্রন্টের মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়েছিলেন। সেই মমতার সরকার এর বিরুদ্ধে মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে সেই দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সরকার এর বিরুদ্ধে জোরদার রাস্তায় নেমে আন্দোলন কোথায় বর্তমানে। রাম আর বাম কি শুধুই একটু বিবৃতি দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক দায় ঝেড়ে ফেলছেন এই চাকরি হারা মানুষের সুপ্রিম কোর্টের রায় এর পরেও। নিজেরা তাল ঠুকছেন আর ভাবছেন এই বার প্যাঁচে পড়েছে সরকার। সামনের বিধানসভার ভোটে নিশ্চিত গদি ছাড়তে হবে নেত্রীকে। কারণ এই শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে দুর্নীতিতে। যে কারণে এই সরকার এর আপাদমস্তক ঢেকে গেছে বলে বিরোধী দল অভিযোগ করে কিন্তু রাস্তায় নেমে, বন্ধ ডেকে, রাজ্যকে অচল করে দিয়ে সেই সরকার এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন করে আন্দোলন করে না কিছুতেই। যে আন্দোলন একমাত্র পথ।যে আন্দোলন কে ভরসা করেই বা একমাত্র পুঁজি করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের এই উত্থান। যেখানে এই ছাব্বিশ হাজার চাকরি বাতিলের ইস্যু নিয়ে হৈ চৈ হুল্লোড় করে গোটা রাজ্যকে স্তব্ধ করে দেওয়ার সুযোগ এসেছিল বিরোধী বাম, কংগ্রেস আর বিজেপির কাছে। কিন্তু সেই সুযোগ পেয়েও কেমন যেন একটু গা ছাড়া মনোভাব বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে। আর তাই ছাব্বিশ এর আগে যে বড়ো ইস্যু পঁচিশেই উঠেছে রাজ্য জুড়ে সেটাকে পাত্তা না দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যাট করছেন তাঁর নিজের স্টাইলে। একদম স্ট্রেট ব্যাটে। তিনি বলছেন কিছুই ভাববেন না আমি আছি তো আপনাদের এই দিদি সবার পাশে আছে ন্যায় বা অন্যায়। আর এই এক কথায় সবাইকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন শুধুমাত্র এটা একটা রাজনৈতিক চক্রান্ত এই কথা বলে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এত বড়ো ঘটনার পরেও। জয় মা মাটি মানুষের জয়। জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়।
