জাতীয় মহিলা হকি দলে বাংলা থেকে উঁকি দিচ্ছে এক নবাগত প্রতিভা। নাম সুজাতা কুজুর। জুনিয়র বিশ্বকাপে মধ্যমাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি নজর কাড়েন নির্বাচকদের। প্রথমবার সিনিয়র শিবিরে জায়গা করে নিয়েছেন এই প্রতিশ্রুতিশীল ক্রীড়াবিদ।
সুজাতা কুজুরকে শেষবার জাতীয় হকি দলের ঘোষিত ৪০ জনের প্রশিক্ষণ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেখান থেকেই নিজের দক্ষতায় এগিয়ে এসে এবার অস্ট্রেলিয়া সফরের সম্ভাব্য ২৬ জনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ভারত-অস্ট্রেলিয়া মহিলা হকির পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। যদিও চূড়ান্ত দল এখনো প্রকাশ পায়নি, তবে কোচ হরেন্দ্র সিংয়ের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই সফরের জন্য ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন সুজাতা।
অনুশীলনের ব্যস্ততার মাঝেই বেঙ্গালুরু থেকে সুজাতা জানালেন তাঁর আবেগের কথা, “জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার স্বপ্ন আমি বহুদিন ধরে দেখেছি। এখন সেটা প্রায় হাতের নাগালে। তবে এখানেই থেমে থাকব না, লক্ষ্য আরও বড়—সিনিয়র দলে নিয়মিত জায়গা করে নেওয়া।” অলিম্পিকের আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্নও এখনও চোখে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
সুজাতা বাংলার হয়েও আদতে ওড়িশার সুন্দরগড় জেলার মেয়ে—যেখানে হকি যেন রক্তে মিশে আছে। তবে সেই রাস্তাটা ছিল না একেবারেই মসৃণ। নিজ গ্রামে খেলার মাঠের অভাব, স্টিক কেনার সামর্থ্য ছিল না কৃষক বাবার। অন্য গ্রামের মাঠে সাইকেলে চড়ে গিয়ে বড়দের স্টিকে অনুশীলন করতেন। ২০১৭ সালে সুন্দরগড় সাই থেকে যাত্রা শুরু, এরপর কলকাতা সাইয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন।
বাঙালি কন্যাদের হাত ধরে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে দেশের মহিলা হকিতে। সুজাতা কুজুরের উত্থান সেই পরিবর্তনেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর সাফল্যে ভীষণ উচ্ছ্বসিত রাজ্য হকি মহল। রাজ্য হকি সংস্থার সচিব ইস্তিয়াক আলি জানালেন, “সুজাতার এই অর্জন শুধু বাংলার জন্য নয়, গোটা দেশের জন্যই গর্বের। মেয়েরা যেভাবে ধারাবাহিক পারফর্ম করছে, তা দেখে আমরা আশাবাদী। সামনে আরও প্রতিভাবান মুখ উঠে আসবে। অ্যাস্ট্রোটার্ফের মতো আধুনিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে আমরা নতুনদের প্রস্তুত করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আগে যেখানে সুযোগ সীমিত ছিল, এখন সেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তারই প্রমাণ সুজাতা। তাঁর কঠোর পরিশ্রম আর মানসিক দৃঢ়তা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
বাংলার হকির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজ্য সংস্থা বেশ আশাবাদী। নতুনদের তুলে আনার জন্য গ্রাসরুট স্তর থেকে কাজ শুরু করেছে সংস্থা। স্থানীয় প্রতিভাকে জাতীয় মঞ্চে তুলে আনাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।
