দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের আন্দোলন এবার প্রবেশ করল এক নতুন পর্বে। মানবিক সহানুভূতির আশ্বাস দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু নিজে বৈঠকে বসতে চলেছেন আন্দোলনকারী চাকরিহারাদের সঙ্গে। এই বৈঠক শুধু প্রশাসনিক দিক থেকে নয়, রাজনৈতিক এবং মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আগামী শুক্রবার, বিকেল ৩টেয় বিকাশ ভবনে হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ৮ জন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধি, শিক্ষা দফতরের দু’জন শীর্ষ আধিকারিক, এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। নেতৃত্ব দেবেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।
এই বৈঠকের ঠিক আগেই চাকরিহারাদের তরফে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে, একদিকে যেমন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ, অন্যদিকে ততটাই জোরালো হচ্ছে আন্দোলনের ময়দানে চাপ।
বুধবার রাত থেকেই চাকরিহারারা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন এসএসসি দফতরের সামনে। বৃহস্পতিবার থেকে চলছে অনশন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় চলছে বিক্ষোভ ও সমর্থন কর্মসূচি। অনেক বিরোধী রাজনৈতিক দলও পাশে দাঁড়িয়েছে আন্দোলনকারীদের। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসা যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন করে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের বহাল রাখতে হবে। এই আবেদন আন্দোলনকারীদের দাবি-দাওয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
চাকরিহারাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে তারা নিজেদের যন্ত্রণা, ক্ষোভ ও বাস্তব পরিস্থিতি শিক্ষামন্ত্রীর সামনে তুলে ধরবেন। তাঁরা আশাবাদী—শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে ইতিবাচক বার্তা আসবে, যা আগামী দিনের আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এখন দেখার, শুক্রবারের বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী কী বার্তা দেন। তাঁর প্রতিক্রিয়া এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই স্থির করবে—চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।
