৩ এপ্রিল, ২০২৫—এই তারিখে শেষ নিশ্বাস ফেলেছে এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল। অথচ মৃত্যু আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, যখন হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে এসএসসি জানায়—“কারা অযোগ্য, তা তারা শনাক্ত করতে পারবে না।” এই একটি বক্তব্যেই কার্যত প্যানেলের কফিনে প্রথম পেরেক পড়েছিল।
প্রথমদিকে ভুল স্বীকার করে নিয়েছিল এসএসসি। মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল, র্যাঙ্ক জাম্পিং, এমনকি ওএমআরের গণ্ডগোল—সবই উঠে এসেছে তাদের একাধিক হলফনামায়। ধাপে ধাপে এসএসসি জানিয়েছে, নবম-দশম শ্রেণিতে ৯৯৩ জন, একাদশ-দ্বাদশে ৮১০ জন, গ্রুপ সি-তে ৭৮৩ জন এবং গ্রুপ ডি-তে ১৭৪১ জন অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছেন। সব মিলিয়ে ৬২৭৬ জন অবৈধ প্রার্থী চিহ্নিত হয়েছে।
তবে এখানেই ওঠে বড় প্রশ্ন যদি অবৈধদের আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়, তবে বাকিরা কি স্বাভাবিকভাবেই যোগ্য? এখানেই বিভ্রান্তি। কারণ, লিখিতভাবে কোথাও স্পষ্ট করে বলা হয়নি ‘বাকিরা সম্পূর্ণ যোগ্য’। বরং ওএমআর শিটের হার্ড কপি বা মিরর ইমেজ না থাকায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ—যোগ্য-অযোগ্য পৃথকীকরণ প্রায় অসম্ভব।
প্রধান বিচারপতির ৩১ পাতার রায়ে স্পষ্ট, যদি যোগ্যদের আলাদা করা যেত, তাহলে হয়তো পুরো প্যানেল বাতিল হত না। এমনকি সিবিআই-এর রিপোর্ট ও ওএমআর বিশ্লেষণ দিয়েও এসএসসি স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি।
আবেদনকারীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের কথায়, “প্রক্রিয়াটাই বেআইনি। ফলে যোগ্য-অযোগ্য নিয়ে বিভাজনের তর্কই অনর্থক।”
পঞ্জাব মামলার নজির টেনে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ—যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা গেলে, প্যানেল বাতিল অযৌক্তিক। কিন্তু যখন সেটা সম্ভব না, তখন পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াই কলুষিত বলেই ধরা হয়।
এবার প্রশ্ন, এসএসসি কি শুধুই ভুল করেছে, না কি সত্যিই কেউ চাইছিল না যোগ্যরা বেঁচে থাকুক? কেবল তদন্তই দিতে পারে উত্তর। আপাতত, ‘মৃত’ প্যানেলের ময়নাতদন্ত চলছে কাগজ-কলমেই।
