আমেরিকা থেকে বিশেষ বিমানে করে ভারতে ফিরিয়ে আনা সন্ত্রাসবাদী হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর রানার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভারত সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, হত্যা, জালিয়াতি এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। মুম্বাইয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রকারী রানাকে ১৮ দিনের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা এনআইএ-র হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রানা হেডলিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে মুম্বাইয়ে ইমিগ্রান্ট ল সেন্টার তৈরি করা।হেডলি ওই ফার্মের প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লি, জয়পুর, পুষ্কর, গোয়া, পুনে এবং মুম্বাই সহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করেছিলেন। রানা নিজেও ২০০৮ সালের নভেম্বরে ভারত সফর করেছিলেন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) রানাকে শিকাগোতে গ্রেপ্তার করে। তিনি ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে একটি সংবাদপত্রে হামলার ব্যর্থ পরিকল্পনায় সহায়তা এবং পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবাকে সহায়তা প্রদানের অভিযোগে অভিযুক্ত হন, যারা মুম্বাই হামলার জন্য দায়ী ছিল। দুই বছর পরে, তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
বৃহস্পতিবার মার্কিন দেশে সকল আইনি পর্ব সমাপ্ত করে তাকে ভারতে নিয়ে আসে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বুধবারই আমেরিকা পৌঁছোয় এনআইএ। বৃহস্পতিবারই এনআইএ-র হাতে সন্ত্রাসবাদী হামলার অন্যতম মূলচক্রীকে তুলে দেয় আমেরিকা। ৬৪ বছর বয়সী তাহাউর রানাকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) গ্রেপ্তার করে। সূত্রের খবর অনুযায়ী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রানাকে বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়।এনআইএ ইমেইল সহ শক্তিশালী প্রমাণের উল্লেখ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায় এবং ষড়যন্ত্র উন্মোচনের জন্য হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে। চাওয়া হয়েছিল ২০ দিনের হেফাজত। তবে মুম্বই হামলার চক্রী রানাকে ১৮ দিনের এনআইএ হেফাজত দেয় এনআইএ স্পেশ্যাল কোর্ট।
বৃহস্পতিবার পালম বিমানবন্দর থেকে রানাকে এনআইএ-র সদর দফতরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়। শুধু তা-ই নয়, দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলকে প্রস্তুত রাখা হয়।এ ছাড়া রানার যাত্রাপথে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না ঘটে, তার জন্য সোয়াট (স্পেশাল ওয়েপন্স অ্যান্ড ট্যাকটিস) কমান্ডোও মোতায়েন করা হয়। এদিকে রানাকে ভারতের মাটিতে ফেরানোর আগেই দিল্লির বুকে হাইভোল্টেজ বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই বৈঠকে ছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, জাতীয় উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।
২০০৮ সালের মুম্বইয়ে হওয়া ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার অন্যতম মূলচক্রীকে ভারতে আনার পথ পুরোপুরি খুলে যাওয়ার পিছনে রয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত, যেখানে তারা রানা’র ভারতের হাতে প্রত্যার্পণ স্থগিত রাখার আবেদন খারিজ করে দেয়। সোমবার আদালতের আদেশে বলা হয়, “প্রধান বিচারপতির কাছে উত্থাপিত আবেদন এবং আদালতে পাঠানো আবেদনটি খারিজ করা হল।”ফলে এখন আর কোনও আইনি জটিলতা ছাড়াই তাকে ভারতে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে। রানা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে একটি আপৎকালীন পিটিশন দায়ের করে, যাতে বলা হয়, যতদিন না তার হ্যাবিয়াস কর্পাস পিটিশনের শুনানি সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততদিন যেন তাকে ভারতে পাঠানো না হয়। তবে বিচারপতি এলেনা কাগান সেই আবেদন আগেই খারিজ করে দেন। এরপর রানা চান তার আবেদন যেন সরাসরি চিফ জাস্টিস জন রবার্টসের কাছে পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট ৪ এপ্রিল সেই আবেদন ‘কনফারেন্স’-এর জন্য তালিকাভুক্ত করে। অবশেষে ৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—রানার আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
