দীর্ঘ বঞ্চনার প্রতিবাদে ক্লাস বয়কটের হুঁশিয়ারি উচ্চ মাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
গোদের উপর বিষফোঁড়া। একেই ২৬ হাজার চাকরি বাতিল নিয়ে মহা বিপদে রাজ্য সরকার। তার উপর এবার চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্লাস বয়কটের হুমকি। এখন স্কুলের স্বার্থে ক্লাস নিচ্ছেন কিন্তু তারাও দীর্ঘ বাইশ বছর ধরে বঞ্চনার শিকার। তাই সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের বঞ্চনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলতে এবার ক্লাস বয়কটের হুঁশিয়ারি উচ্চ মাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। তাদের বক্তব্য, ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা। কারণ, রাজ্যের বেশিরভাগ স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে একটি বিষয় পড়ানোর জন্য একজন করে শিক্ষক। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে উক্তিভিত্তিক শিক্ষকরাই অপরিহার্য ভূমিকা নিয়েছেন অনেকদিন ধরেই। না হলে সেই বিষয়টি ওই স্কুল থেকে উঠে যাওয়ার জোগাড় হতো বলেও জানিয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থেকেও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের বেতন ১৫০০০ টাকার কম। অথচ সরকারের গ্রুপ সি কর্মী স্তরে যারা চুক্তিভিত্তিতে কাজ করছেন তাদের বেতন ৩৯ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডি স্তরে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন প্রায় ৩৭ হাজার টাকা। এমতাবস্থায় তাদের প্রতি আর্থিক বঞ্চনা বা বেতন বৈষম্যের অভিযোগ তুলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়াতে চাইছেন উচ্চমাধ্যমিক স্যারের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। উচ্চ মাধ্যমিক চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ সরকার জানান ” উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এমনিতেই শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব। তার উপর কৃত্রিম মেধা ডেটা সায়েন্স এর মত বিষয় যুক্ত হয়েছে। ফলে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার হাল ধরতে আমরাই অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছি দীর্ঘদিন ধরে। অথচ প্রায় ২২ বছর ধরে আমাদেরই আর্থিক ভাবে বঞ্চিত করছে রাজ্য সরকার। এখনো পর্যন্ত ১৫ হাজার টাকায় বেতন ক্রম পৌঁছয়নি। অন্যান্য ক্ষেত্রের সঙ্গে বেতন বৈষম্য অনেক বেড়েছে।”
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে বেশ কিছু কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর যুক্ত করা হয় বহু মাধ্যমিক স্কুলের সঙ্গে। সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বটে কিন্তু সে তুলনায় মাধ্যমিক স্কুলগুলিতে শিক্ষকের যোগান নেই। চুক্তিভিত্তিতে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দেয় তৎকালীন রাজ্য সরকার। শুধু উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পড়ানোই নয় উচ্চ মাধ্যমিকের খাতা দেখা থেকে ভোটের ডিউটি সব কাজেই লাগানো হয় এই চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। কল্যাণবাবুদের সাফ কথা ” আমরা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ থেকে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর সব জায়গায় বেতন বাড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আবেদন করছি। কিন্তু কোথা থেকেও কোনও সদুত্তর পাইনি। সরকারপক্ষ যদি আমাদের কথা না ভাবেন তাহলে আমরাও ক্লাস বয়কট করব।” অর্থাৎ ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ অবস্থা শিক্ষা দপ্তরের। শিক্ষা দপ্তরের পদস্থ কর্তারা জানাচ্ছেন ” চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক শিক্ষিকারা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের বিষয়টি অবশ্যই ভাবা উচিত। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদন মিললে অবশ্যই দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ করবে শিক্ষা দপ্তর।” যদিও চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বক্তব্য, গত ২২ বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিললেও বঞ্চনার ছবিটা বদলাইনি। তাই নতুন করে কোনও আশ্বাসেই আর চিঁড়ে ভিজবে না।
