লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সংখ্যালঘু ভোটকে টার্গেট করে ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন নিয়ে দেশব্যাপী সচেতনতা অভিযানের ঘোষণা করল বিজেপি। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত চলবে এই মাসব্যাপী ‘ওয়াকফ সংস্কার জনজাগরণ অভিযান’। বিজেপির দাবি, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল পসমন্দা তথা পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়কে নতুন আইনের সুফল সম্পর্কে অবহিত করা।
দিল্লিতে আয়োজিত এক কর্মশালায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বিজেপি সভাপতি জে.পি. নাড্ডা এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্য, জেলা এবং মণ্ডল স্তরে টাউনহল বৈঠক, ঘরে ঘরে প্রচার এবং মুসলিম সমাজের সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই আইন সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি সংক্রান্ত স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করবে।
বিশেষ করে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু ও আসামের মতো রাজ্যগুলিতে এই প্রচার কর্মসূচি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, এই রাজ্যগুলিতে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক নির্বাচনী দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই এই সংশোধনী আইনকে এক “ঐতিহাসিক পদক্ষেপ” বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে ওয়াকফ বোর্ডগুলির উপর নজরদারি বাড়বে, স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং পসমন্দা মুসলিম, দরিদ্র নারী এবং সাধারণ মুসলমানরা এর সরাসরি উপকারভোগী হবেন।
অন্যদিকে বিরোধী দলগুলি এই আইনের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি এই আইনকে ব্যবহার করে মুসলিমদের জমি ও সম্পত্তি দখলের পথ খুলে দিচ্ছে। পাশাপাশি মুসলিম সমাজে বিভাজন ঘটানোরও অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের মতে, এই আইন আসলে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করার একটি কৌশল।
তবে বিজেপি একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অপপ্রচার বলেই মনে করছে। কিরেন রিজিজু জানান, “বিরোধীরা মুসলিম সমাজকে ভুল বার্তা দিচ্ছে। অথচ এই আইন বাস্তবে ওয়াকফ বোর্ডের অপব্যবহার বন্ধ করবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীদেরই সুরক্ষা দেবে।”
এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপির এই কর্মসূচিকে বিশ্লেষকরা দেখছেন নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে। মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের একাংশকে আকর্ষণ করে বিরোধীদের প্রভাব খর্ব করাই যে বিজেপির অন্যতম উদ্দেশ্য, তা স্পষ্ট।
আগামী কয়েক সপ্তাহে এই অভিযান কতটা প্রভাব ফেলবে এবং তা ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হবে, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এতটুকু নিশ্চিত যে ওয়াকফ আইনকে ঘিরে বিজেপির এই পদক্ষেপ একাধিক রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
