স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিল এক তরুণী নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, নিজের উপার্জনে সংসার চালানোর। কিন্তু সেই স্বপ্নই হয়ে উঠল তাঁর ‘অপরাধ’। ফলাফল? পায়ে শিকল! একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে সমাজের চোখে যেন এ এক ভয়ংকর পশ্চাৎগামী কাহিনি যেখানে মেয়ের চাকরি করা মানেই পরিবারে কলঙ্ক, আর স্বাধীনতা মানেই শৃঙ্খল!
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার ঘুসুড়ি এলাকায়। অভিযুক্ত বাবা-মা তাঁদের ১৯ বছর বয়সি মেয়েকে ঘরবন্দি করে পায়ে শিকল বেঁধে রেখেছিলেন, কারণ তিনি তাঁদের কথা না শুনে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করছিলেন। নিউ ব্যারাকপুরের সংস্থাটিতে কাজের সূত্রে তিনি সেখানে থাকারও ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন। কয়েকদিনের ট্রেনিং শেষে বাড়ি ফেরার পরই বিপত্তি।
তরুণীর অভিযোগ, বাবা-মা জোর করে তাঁকে চাকরি ছাড়াতে চেয়েছিলেন, পাত্র দেখা শুরু করেছেন। মেয়ে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। একাধিকবার মারধরও করা হয় তাঁকে। শেষমেশ, কোথাও যাতে না যেতে পারেন, সেই জন্য পায়ে শিকল বেঁধে ঘরে আটকে রাখা হয় তাঁকে।
অন্যদিকে, মেয়ের বাবা-মার দাবি, মেয়ের চাকরির জায়গা ‘ভাল নয়’। কোম্পানির লোকজন তাঁকে ভুল বুঝিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাই মেয়েকে চাকরি ছাড়িয়ে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে সংসারী করাই তাঁদের উদ্দেশ্য।
খবর পেয়ে মালিপাচঘরা থানার পুলিশ গিয়ে তরুণীকে শিকল বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। থানায় ডেকে পাঠানো হয় অভিভাবকদেরও। কিন্তু তরুণী লিখিত অভিযোগ না করায়, পুলিশ এখনই কোনও আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।
তরুণীর স্পষ্ট কথা, আমি শুধু চাকরি করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। স্বাবলম্বী হতে চাই। বিয়ে নয়, এখন আমার স্বপ্ন কাজ করা।
একবিংশ শতাব্দীর এই বাস্তবতা যেন মনে করিয়ে দেয় নারীর স্বাধীনতার পথে আজও কত শিকল পড়ে আছে!
