প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হরিয়ানার হিসার বিমানবন্দর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে কংগ্রেস ২০১৩ সালে ওয়াকফ আইন সংশোধন করে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে এটি পরিবর্তন করেছে, যা ড. বি আর আম্বেদকরের সংবিধানিক নীতির সাথে সাংঘর্ষিক। মোদী বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ওয়াকফ নিয়ে কোনও সমস্যা ছিল না, কিন্তু কংগ্রেস শুধু ভোটের রাজনীতি করে নিজের সুবিধার জন্য আইনে পরিবর্তন ঘটিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “লক্ষ লক্ষ গরিব মুসলিমদের জমি সেবার অছিলায় হাতিয়ে তা জমি মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওয়াকফ আইন এই দরিদ্রদেরই ন্যায়বিচার দেবে।” মোদী দাবি করেন, এই আইন দরিদ্র মুসলিমদের উন্নয়নে সহায়ক হবে, এবং এটি দেশের উন্নতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার মতে, কংগ্রেস ওয়াকফ আইন নিয়ে যে সংশোধন করেছিল, তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য করা হয়েছিল।
এই বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে বর্তমানে দেশে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও আন্দোলন প্রকট হয়ে উঠছে, যার ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ অশান্ত হয়ে উঠছে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করছেন যে এই আইন মুসলিমদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং এটি তাদের ভূমির প্রতি অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি সরকারের মতে, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইন, যা তাদের উন্নয়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি নিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদী আগামী ২৪ এপ্রিল বাংলায় সফরের পরিকল্পনা করেছেন। তাঁর সফরের উদ্দেশ্য রাজ্যে এই আইনের বিরোধী আন্দোলনকে শান্ত করার চেষ্টা করা এবং বিজেপির অবস্থান পরিষ্কার করা। মোদী এই সফরের সময় বিক্ষোভকারী দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে, রাজ্য সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে পারেন।
এই আইনের বিরোধিতা চলছে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর তরফ থেকে। তারা দাবী করছে যে এই আইন মুসলিম সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের প্রতি আঘাত হানছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী দাবি করছেন যে ওয়াকফ আইন সংশোধনী মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বাস্তবিক উন্নয়ন এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিষয়টি দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। আসন্ন নির্বাচনগুলির প্রেক্ষাপটে, এই আইনের ওপর রাজনৈতিক বিতর্ক এবং জনমতের বিভক্তি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাবিত করবে। বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রচারের অংশ হিসেবে ওয়াকফ আইন নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে সজাগতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই আইনকে তাদের রাজনৈতিক বিরোধিতা ও জনসমর্থনের জন্য ব্যবহার করতে চেষ্টা করছে।
তবে, প্রধানমন্ত্রী মোদী পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে বিজেপি মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে, এবং ওয়াকফ আইন তাদের ভবিষ্যতের উন্নয়ন এবং সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি দাবি করেছেন, এই আইনের মাধ্যমে গরিব মুসলিমদের জমি চুরি বন্ধ হবে এবং তাদের উন্নতির পথ প্রশস্ত হবে।
এখন, এই বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন সংশোধন, বিক্ষোভ, রাজনৈতিক সমালোচনা—সব কিছু একত্রিত হয়ে এটি আসন্ন নির্বাচনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
