শেষ ৩৬ ঘণ্টা স্থিতিশীল জানালেন জাভেদ শামীম
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
শেষ ৩৬ ঘণ্টায় মুর্শিদাবাদে নতুন করে অশান্তি হয়নি। তবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। এখনও বেশ কিছু এলাকায় গুজব ছড়ানো হচ্ছে, সেই কারণেই বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা বলে জানিয়েছেন এডিজি আইনশৃঙখলা জাভেদ শামীম। গুজবকে বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়েছেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা। তিনি আরও জানান, মুর্শিদাবাদে বাবা-ছেলের খুনের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।
মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার জাভেদ শামীম জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে মুর্শিদাবাদে। এলাকায় আতঙ্কের যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, তা কাটানোর চেষ্টা চলছে। জঙ্গিপুর এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ধীরে ধীরে দোকানপাটও খোলা হচ্ছে। অশান্তির জেরে যাঁরা ঘরছাড়া হয়েছিলেন, তাঁদের ঘরের ফেরানো হচ্ছে। বেশ কয়েকটি পরিবার ফিরে এসেছে। পাশাপাশি কোনো রকম গুজব না ছড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় এলাকায় রুট মার্চ চলছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কোনও অপরাধীকে রেহাত করা হবে না। যারা অশান্তি ছড়িয়েছে, সকলকে শাস্তি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এফআইআরও দায়ের হয়েছে অনেক। সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এডিজি আইনশৃঙখলা। ওয়াকফ সংশোধনী আইন কার্যকরী হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই আইনের প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন বিরোধীরা। দেশের পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই আইনের প্রতিবাদে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। এই আইনের বিরোধীতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদ। শুক্রবার থেকে খবরের শিরোনামে রয়েছে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, সুতি, জঙ্গিপুর। জেলা জুড়ে শুধুই দেখা গিয়েছে রণক্ষেত্রের চেহারা। এলাকায় শান্তি ফেরাতে স্থানীয়দের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানিয়েছেন জাভেদ শামীম। জাভেদ বলেন “শান্তি ফেরাতে স্থানীয়দের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এগিয়ে এলেই দ্রুত স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি।”
পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, বাইরের রাজ্য থেকে কিছু না জেনেই বিভিন্ন ভুল তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। যার জেরে সমস্যা বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সমস্ত ভুল তথ্য প্রকাশ করায় দ্রুত শান্তি ফিরতে বিঘ্ন ঘটছে বলেও জানান তিনি।
